নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পথ দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন ছেলেকে। কিন্তু পুত্রের মৃত্যুর শোক বুকে পাথরচাপা দিয়ে রেখে ছয় জনকে নতুন জীবন দান দান করলেন ভারতীয় সেনার হাবিলদার নরেশ কুমার। নিজের পরিবারের আঁধারকে আড়ালে রেখে আলো জ্বাললেন ছয় পরিবারের ঘরে। আর পুত্রহারা নরেশের ওই কাজকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন চিকিৎসক থেকে শুরু করে নেটা নাগরিকরা। অনেকেই আপশোষের কণ্ঠে বলছেন, ‘নরেশ কুমারের মতো বাবা কেন ঘরে ঘরে হয় না?’
তাহলে খুলেই বলা যাক ঘটনাটি। গত ৮ ফেব্রুয়ারি ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় গভীরভাবে জখম হয়েছিলেন ১৮ বছরের আরশদীপ সিংহ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ভর্তি করা হয়েছিল হাসপাতালে। কিন্তু আপ্রাণ চেষ্টা করেও চিকিৎসকরা বাঁচাতে পারেননি। তরতাজা ছেলেকে চোখের নিমিষে হারানোর পরে গোটা পৃথিবীকেই অন্ধকার মনে হচ্ছিল ভারতীয় সেনার মাহার রেজিমেন্টে কর্মরত হাবিলদার নরেশ কুমারের। কিন্তু পুত্র হারানোর শোককে নিমিষেই ভুললেন তিনি। সিদ্ধান্ত নিলেন আরশদীপের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করে হাসি ফোটাবেন অন্যদের মুখে। যার সঙ্গে তাঁর বিন্দুমাত্র রক্তের সম্পর্ক। সেই মতো চণ্ডীমন্দিরের কম্যান্ড হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। জানিয়ে দেন, আরশদীপের অঙ্গ-প্রত্ঙ্গ দান করতে চান।
প্রথমে নরেশের মুখে ওই কথা শুনে খানিকটা হতবিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন চিকিৎসকরা। সেই হতবিহ্বলভাব কাটিয়ে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের কাজে নেমে পড়েন তাঁরা। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি গ্রিন করিডর করে আরশদীপের লিভার ও কিডনি নিয়ে আসা হয় দিল্লির আর্মি হসপিটাল রিসার্চ অ্যান্ড রেফারলে। আর একটি কিডনি ও প্যানক্রিয়াস দান করা হয় চণ্ডীগড়ের পিজি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়া দুই রোগীকে। আরশদীপের চোখের দুটি কর্ণিয়া অবশ্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। দৃষ্টিশক্তিহীন দুই রোগীকে (যাদের জরুরি প্রয়োজন) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভারতীয় সেনার পক্ষ থেকে হাবিলদার নরেশ কুমারের ওই ত্যাগকে প্রশংসা করে বলা হয়েছে, ‘নরেশ কুমারের আত্মত্যাগ কেবল তার দৃঢ়তার প্রমাণ নয়। এটি একটি অনুপ্রেরণা। তার নিঃস্বার্থ কাজ অনেককে অঙ্গ দান করার ক্ষেত্রে উত্সাহিত করবে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, ব্যক্তিগত ক্ষতির মুখেও একজন অন্যের জীবনে আলো আনতে পারে।’