নিজস্ব প্রতিনিধি: রিয়াল মাদ্রিদকে গোলের মালা পরিয়ে স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতল বার্সেলোনা। খেলার ফল ৫-২। বার্সার হয়ে জোড়া গোল করেছেন রাফিনিয়া। বাকি তিন গোল লামিনে ইয়ামাল, রবার্ট লেয়নডস্কি ও আলজান্দ্রো ভালার্দের। রিয়ালের হয়ে গোল করেছেন কিলিয়ান এমবাপে ও রদ্রিগো। এ নিয়ে ১৫ বার সুপার কাপ ঘরে তুলল কাতালান ক্লাবটি। সেই সঙ্গে পর পর দুটি এল ক্লাসিকোতে রিয়ালের জালে ৯ গোল জড়িয়ে নজির গড়লেন হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা।
রবিবার (১২ জানুয়ারি) রাতে জেদ্দার কিং আবদুল্লা স্পোর্টস সিটিতে বদলা নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নেমেছিল দুই দল। কার্লো আনচেলেত্তির শিষ্যরা নেমেছিল লা লিগায় বার্সার কাছে ৪-০ গোলে হারার প্রতিশোধ নিতে। আর হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা নেমেছিল গতবার সুপার কাপ হারার বদলা নিতে। শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে খেলতে শুরু করে বার্সার খেলোয়াড়রা। লামিনে ইয়ামাল-রবার্ট লেয়নডস্কিরা তুর্কি নাচন নাচান রিয়াল মাদ্রিদের রক্ষণ ভাগকে। কিন্তু ম্যাচের গতির বিপরীতে গিয়ে প্রতি আক্রমণ থেকে বার্সার জাল কাঁপিয়ে দলকে এগিয়ে দেন কিলিয়ান এমবাপে। ম্যাচের পাঁচ মিনিটের মাথায় ওই গোল খেয়ে খোঁচা খাওয়া বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। এর পরে নিজেদের মধ্যে ছোট ছোট পাস খেলে রিয়ালের রক্ষণে পৌঁছে যান ইয়ামাল-লেয়নস্কিরা। ২২ মিনিটে বার্সাকে সমতায় ফেরান ইয়ামাল। ৩৪ মিনিটে নিজেদের বক্সের ভেতর বলের দখল নিতে গিয়ে বার্সা মিডফিল্ডার গাভিকে ফাউল করে বসেন রিয়াল মিডফিল্ডার এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা। ভিএআর এর সাহায্য নিয়ে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। দুর্দান্ত স্পট কিক থেকে ৩৬ মিনিটে বার্সাকে ২-১ গোলে এগিয়ে দেন লেয়নডস্কি। আর ওই গোলের পরেই খেই হারিয়ে ফেলে রিয়াল। তিন মিনিট বাদে ৩৯ মিনিটের মাথায় প্রায় মাঝমাঠ থেকে কুন্দে লম্বা পাস বাড়ান রিয়ালের বক্সের দিকে এগোতে থাকা অরক্ষিত রাফিনিয়ার দিকে। লাফিয়ে করা দুর্দান্ত এক হেডে ব্যবধান ৩-১ করেন। প্রথমার্ধের সংযুক্তি সময়ের ১০ মিনিটে ইয়ামাল দারুণ পাস বাড়ান রাফিনিয়াকে। বক্সের কাছাকাছি গিয়ে রাফিনিয়া রিয়াল মিডফিল্ডার ফেদে ভালভার্দেকে পরাস্ত করে বল বাড়ান অ্যালেক্স বালদের দিকে। দারুণ এক শটে ৪-১ করেন বালদে। ৪-১ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ফ্লিকের শিষ্যরা।
৪-১ গোলে পিছিয়ে থেকেও হার মানেনি কার্লো আলচেলেত্তির শিষ্যরা। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ধীরে-ধীরে খেলায় ফিরতে থাকেন কিলিয়ান এমবাপেরা। শুরুতেই রিয়ালের মিডফিল্ডার রদ্রিগোর শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ৪৮ মিনিটে ফের রিয়ালের জালে বল জড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করার পাশাপাশি ব্যবধান ৫-১ করেন রাফিনিয়া। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ নিজেদের হাতে থাকা সত্বেও বক্সের বাইরে গিয়ে এমবাপেকে বিশ্রি ট্যাকল করে ৫৬ মিনিটে লালকার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন বার্সা গোলকিপার ভয়চেক সেজনি। শেষের প্রায় ৪০ মিনিট বার্সা খেলল ১০ জন নিয়ে। তবে সুযোগটা নিতে পারল না রিয়াল মাদ্রিদ। ৬০ মিনিটের মাথায় বার্সার রক্ষণভাগকে পরাস্ত করে ব্যবধান কমান রদ্রিগো। এর পরে উজ্জীবিত হয়ে মুহুর্মুহু আক্রমণ শানিয়ে বার্সার রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত করন এমবাপেরা। কিন্তু কাঙ্খিত গোল পাননি। শেষ পর্যন্ত ৫-২ গোলে হারের লজ্জা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় কার্লো আনচেলেত্তির শিষ্যদের।