নিজস্ব প্রতিনিধিঃ কুলতলির মৈপীঠে ফের বাঘের আতঙ্ক। রবিবার সকালে নদী তীরবর্তী এলাকায় বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পান এলাকাবাসীরা। সেই পায়ের ছাপ দেখে ঠাকুরান নদী পেরিয়ে লোকালয় সংলগ্ন জঙ্গলে ঢুকে পড়েছে দু’টি ‘রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার’ বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। ইতিমধ্যেই এই খবর দেওয়া হয়েছে বন দফতরে।
লোকালয় সংলগ্ন এলাকায় বার বার বাঘ চলে আসায় আতঙ্কের ছায়া গোটা এলাকা জুড়ে। জঙ্গলের পাশেই তাদের বসবাস। এলাকাবাসীদের দাবি, পেটের দায়ে তাদের জঙ্গলেও যেতে হয়। এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ জঙ্গল সংলগ্ন গোটা লোকালয় জাল দিয়ে ঘিরে ফেলার দাবি জানাচ্ছেন। এ ছাড়া নদীবাঁধ সংলগ্ন রাস্তায় যাতে আলো লাগানো হয়, তারও দাবি জানিয়েছেন তারা। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বিভাগীয় বন আধিকারিক (ডিএফও) নিশা গোস্বামী বলেন, “ইতিমধ্যেই প্রায় এক কিলোমিটার জায়গা ঘেরা হয়েছে। বাঘ আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
প্রসঙ্গত, গত ৬ জানুয়ারি বৈকুণ্ঠপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের শ্রীকান্ত পল্লি ও কিশোরীমোহনপুর এলাকায় জঙ্গল লাগোয়া গ্রামে বাঘের পায়ের ছাপ দেখে বাঘের খোঁজ শুরু করেছিলেন গ্রামবাসীরা। পরে বনকর্মীরাও তাদের সঙ্গে যোগ দেন। পায়ের ছাপ অনুসরণ করে নদীবাঁধ সংলগ্ন বনসৃজন প্রকল্পের বাদাবনে ঢুকতেই শোনা যায় গর্জন। গ্রামবাসীদের একাংশ জানান, মৃত একটি গবাদি পশুকে নদীর পারে ফেলা হয়েছিল। সম্ভবত সেই ‘টানেই’ বাঘ খাঁড়ি টপকে গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় আসে। পায়ের ছাপ দেখে বোঝা যায় গত ৮ তারিখ ভোরে বাঘ ফিরে যায় জঙ্গলে।
গত বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামের পাশে মাকড়ি নদীর পারে ম্যানগ্রোভের ঝোপে ফের দেখা যায় বাঘের পায়ের ছাপ। স্থানীয়দের একাংশের দাবি , রাতে আবার আজমলমারির জঙ্গল থেকে নদী পেরিয়ে গ্রাম লাগোয়া বাদাবনে ঢুকে পড়েছে বাঘ। শ্রীকান্ত পল্লি-কিশোরীমোহনপুর এলাকার পর বাঘের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে কয়েক কিলোমিটার উত্তরে বৈকুণ্ঠপুর পঞ্চায়েতেরই নগেনাবাদে।