নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই আম আদমির মনে কাঁপুনি ধরাচ্ছে চিনে তাণ্ডব চালানো এইচএমপিভি। ইতিমধ্যেই কর্নাটক, গুজরাত, মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যে এইচএমপিভি’তে আক্রান্তের হদিশ মিলেছে। কোভিড কালের স্মৃতি ফিরছে ফের। ধস নেমেছে শেয়ারবাজারেও। এমন পরিস্থিতিতে এইচএমপিভি নিয়ে মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা। সাধারণ মানুষকে চিনা ভাইরাস নিয়ে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৬ জানুয়ারি) সকালেই দেশে প্রথম এইচএমপিভি’র সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছিল। বেঙ্গালুরুর এক বেসরকারি হাসপাতালে তিন ও আট মাসের দুই শিশুর শরীরে ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার কথা জানা গিয়েছিল। তার পরেই গুজরাতের আমদাবাদ এবং পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার দুই শিশুর শরীরে মারণ ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার খবর মিলেছিল। আর একের পর এক রাজ্যে শিশুদের সংক্রমিত হওয়ার খবর গোটা দেশবাসীর মধ্যে কাঁপুনি ধরিয়ে দিয়েছিল। এমনকি এইচএমপিভি ধরা পড়ার পরে রক্তক্ষরণ লক্ষ্য করা গিয়েছিল শেয়ারবাজারেও। একদিনেই ১,২৫৮ সূচক খুঁইয়েছে সেনসেক্স। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ যখন বাড়ছিল ঠিক তখনই মুখ খুলেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা।
এদিন সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এইচএমপিভি নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এটা নতুন কোনও ভাইরাস নয়। ২০০১ সালে প্রথমবার এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল। সারা বিশ্বেই এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। শ্বাস-প্রশাস এবং বাতাসের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। এটা নির্দিষ্ট কোনও বয়সের মানুষকে নয়, সব বয়সের মানুষকেই সংক্রামিত করতে পারে। ঠান্ডা এবং মরসুম বদলের সময়েই এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়ায়। চিনে এই ভাইরাসের প্রকোপ নিয়ে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রক, আইসিএমআর-সহ বিভিন্ন সংস্থা দেশে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের উপরে বিশেষ নজর রেখে চলেছে। এখনও পর্যন্ত অযথা আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু নেই।’