নিজস্ব প্রতিনিধিঃ জিনাতের আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই ফের রাজ্যে ওড়িশা থেকে আসা আরও এক বাঘের আতঙ্ক। এর জেরে কাঁপছে ঝাড়খণ্ড ছুঁয়ে থাকা দক্ষিণ-পশ্চিম পুরুলিয়াও। সোমবার গঙ্গাসাগরে গিয়ে মঞ্চ থেকে এই বিষয়ে ওড়িশা সরকারকে অনুরোধ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে ওড়িশার বনকর্মীদের দিয়ে বাঘ উদ্ধার করার বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী।
সোমবার গঙ্গাসাগর পরিদর্শনে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গঙ্গাসাগরের সব দিক খতিয়ে দেখেন তিনি। এরপরই মঞ্চ থেকে বাঘের আতঙ্ক নিয়ে বার্তা দেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “ কিছুদিন আগেই ওড়িশা থেকে এক বাঘ এসেছিল আমাদের রাজ্যে। প্রায় ৯ দিন ধরে বিভিন্ন জেলায় ঘুরেছিল ওই বাঘ। তারপর আমাদের বনকর্মীরা সেই বাঘকে ধরে যখনই সুস্থ করল, তখনই ওড়িশা থেকে চাইছে এই বাঘ। দিয়ে দিয়েছি। আবার এরাজ্যে এসেছে আরও এক ওড়িশার বাঘ। দীর্ঘদিন ধরে অনেক কষ্ট করে আমাদের লোকজন জিনাতকে ধরেছে, তারপর আবার আরও এক বাঘ। আর পারা যাবে না। আমি ওড়িয়ার সরকারকে দোষারোপ না দিয়ে বলছি, আপনাদের বাঘকে বনকর্মীদের দিয়ে নিয়ে যান। পাঠালে একেবারে পাঠান রেখে দেব। জল দিয়ে ছেড়ে দিলে হবে না।“
উল্লেখ্য, জিনাতের মতোই প্রতি রাতে ১৪-১৬ কিমি হাঁটছে এই বাঘ। কখনও পুরুলিয়া ছুঁয়ে। আবার কখনও সরাইকেলা-খরসোওয়া বনবিভাগের চাণ্ডিল থেকে আরেক বিভাগ খুঁটির তামাড় রেঞ্জ। তারপর আবার চাণ্ডিলের বালিডিতে ফিরে আসা। তার সংগৃহীত আসা-যাওয়ার পায়ের ছাপ এমন কথাই বলছে। প্রায় বর্ষশেষে জিনাত পুরুলিয়া জেলা বদল করে দক্ষিণ বাঁকুড়ায় ধরা দেওয়ায় তিন রাজ্য ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, বাংলা হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেও সেই জিনাতকে খুঁজতে আরেক রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের আগমনকে ঘিরে আবার রাত জাগা শুরু পুরুলিয়ার বলরামপুর ও বাঘমুণ্ডির দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে। বনকর্মীদের দাবি, জিনাতের গলায় তবু রেডিও কলার ছিল, কিন্তু এই বাঘের গলায় রেডিও কলার না থাকায় আরও সমস্যা মুখে পড়তে হচ্ছে।