নিজস্ব প্রতিনিধিঃ শীতকালে রবিবার মানেই ছুটির মেজাজে পিকপিক। সেই সঙ্গে চলছিল জমিয়ে খাওয়া-দাওয়া, হই-হট্টোগোল। এরই মাঝে আচমকায় দামোদরের পাড়ে দেখা গেল কিছু। দৌড়ে যান সেখানে। বালি থেকে উদ্ধার হয় এক মূর্তি। পরে জানা গেল, ওই মূর্তিটি বহুপ্রাচীণ। সেটি সূর্যদেবতার মূর্তি। দুপুরের পর মূর্তিটিকে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের মিউজিয়ামে নিয়ে আসা হয়।
জানা যায়, পূর্ব বর্ধমানের হরিপুর এলাকায় দামোদর নদের তীরে পিকনিক করতে গিয়েছিলেন জনা কয়েক যুবক। তাদের চোখে পড়ে ওই প্রাচীন মূর্তিটি। এরপর সেই ছবি চলে আসে মিউজিয়ামের আধিকারিক শ্যামসুন্দর বেরার হাতে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে জানান। রেজিস্ট্রার আবার পুলিশকে খবর দেন। ঘটনাক্রমে পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে মূর্তিটি উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিউজ়িয়ামে নিয়ে গিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। বিশেষজ্ঞদের অনুমান, উদ্ধার হওয়া মূর্তিটি পাল বা সেন যুগের।
বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের মিউজ়িয়ামের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক শ্যামসুন্দর বেরা বলেন, “মূর্তিটি পাওয়া গিয়েছে দক্ষিণ দামোদর এলাকার হরিপুর গ্রামে। ওটা নতুন পঞ্চায়েত এলাকার মধ্যে পড়ে। কয়েক জনের মাধ্যমে খবর পেয়ে মূর্তিটি দেখতে গিয়েছিলাম।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘সূর্য মূর্তিটি পাওয়া গিয়েছে দামোদর নদের গর্ভ থেকে। মনে করা হচ্ছে,পাল কিংবা সেন যুগে তৈরি এটি। দশম বা একাদশ শতকে তৈরি হলে কম করে এগারোশো বছরের পুরনো মূর্তি হবে এটা।’’ মূর্তিটির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে শ্যামসুন্দর জানান, এটি ব্যাসল্ট পাথর দিয়ে তৈরি। মূর্তিটির উচ্চতা প্রায় তিন ফুট, প্রস্থ দেড় ফুটের কাছাকাছি।
বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের মিউজ়িয়ামে বেশ কয়েকটি সূর্য মূর্তি রয়েছে। তবে এই মূর্তিতি ‘ব্যতিক্রমী’ বলে মনে করছেন শ্যামসুন্দর। তিনি বলেন, ‘‘মূর্তিটাকে ব্যতিক্রমী বলে মনে হওয়ার কারণ, কীর্তিমুখ এবং উড়ন্ত বিদ্যাধরের উপস্থিতি। মূর্তিটির মুখমণ্ডল ভাঙা। তবে একচক্র এবং সপ্তাশ্ববাহী রথ রয়েছে।