নিজস্ব প্রতিনিধি: ইনকাম সার্টিফিকেট হোক বা ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট, যেকোনো কিছু পেতে হলে পঞ্চায়েত দফতরে দিতে হয় লম্বা লাইন। সেই সঙ্গে দিনের পর দিন পঞ্চায়েতে হত্যে দিয়ে পড়ে থাকলে, তবে মেলে সার্টিফিকেট। এই ছবি দেখে আসছেন আট থেকে আশি। তবে এবার সাধারণ মানুষের হয়রানির দিন শেষ। এবার এক ক্লিকেই মুহূর্তের মধ্যে মিলবে যেকোনো শংসাপত্র। তেমনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। কাল তথা শুক্রবার থেকে অনলাইনে মিলবে এই পরিষেবাগুলি। নির্দিষ্ট পোর্টালে কয়েকটি ক্লিকের মাধ্যমে হাতে চলে আসবে কাঙ্খিত শংসাপত্র।
রাজ্য প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জাতিগত শংসাপত্রের পাশাপাশি পঞ্চায়েত প্রধানের শংসাপত্র, ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট, ব্যক্তি পরিচয়পত্র, রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট, ইনকাম সার্টিফিকেট মিলবে অনলাইনে। চাকরির ক্ষেত্রে বা উচ্চশিক্ষা সহ নানা প্রয়োজনে এসব শংসাপত্রের দরকার পড়ে। এর পাশাপাশি তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে ডিসট্যান্স সার্টিফিকেটকেও। বিশেষ করে কলেজ-ইউনিভার্সিটির পড়ুয়াদের কাজে লাগে এই শংসাপত্র।
রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, ‘অনেক সময় দেখা যায়, সাধারণ একটি শংসাপত্রের জন্য চূড়ান্ত দুর্ভোগ পেতে হচ্ছে মানুষকে। পঞ্চায়েত কার্যালয়ে হত্যে দিয়ে পড়ে থাকতে হয় কখনও কখনও। মানুষের এই ভোগান্তি নবান্নের কাছে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই ধরনের দুর্ভোগ থেকে মানুষকে রেহাই দেওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রী বরাবর বলে এসেছেন। তাই এই অনলাইন পরিষেবা চালু করে পরিষেবাগুলি লাল ফিতের ফাঁস থেকে মুক্ত করল রাজ্য পঞ্চায়েত দফতর।’
অনলাইনের মাধ্যমে এই শংসাপত্র পেতে হলে পঞ্চায়েত দফতরের পোর্টালে ঢুকে ‘সিটিজেনস কর্নার’-এ গিয়ে সংশ্লিষ্ট লিঙ্কে ক্লিক করে শংসাপত্রের জন্য আবেদন করা যাবে। নির্দিষ্ট কয়েকটি নথি ও তথ্য আপলোড করলেই মিলবে সার্টিফিকেট। তবে তা দেওয়ার আগে আবেদনকারীর দেওয়া সমস্ত তথ্য ও নথি যাচাই করে নেওয়া হবে। একজনের সার্টিফিকেট যাতে অন্য কেউ ডাউনলোড না করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। আবেদনকারীকে প্রথমেই দিতে হবে নিজের মোবাইল নম্বর। তার মোবাইলে পাঠানো ওটিপি দিলে তবেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে। অর্থাৎ, এই ব্যবস্থায় একজনের শংসাপত্র অন্য কারও হাতে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই, যদি না সংশ্লিষ্ট আবেদনকারী নিজেই তার মোবাইলে পাঠানো ওটিপি অন্য কাউকে জানিয়ে দেন।