নিজস্ব প্রতিনিধি :- আর কিছুদিনের পরেই পালিত হবে বড়দিন। যীশু খ্রিস্টের জন্মদিন উপলক্ষ্যে মেতে ওঠে সব ধর্মের মানুষ। আর তার জন্য আলো ও রঙের মেলায় সেজে ওঠে গোটা শহর কলকাতা। বাড়িঘর, দোকানপাট সেজে ওঠে ঝলমলে ক্রিসমাস ট্রি ও রঙিন বাতির আলোকসজ্জায়। সঙ্গে থাকে ক্রিসমাস ক্যারলের সুর আর থলেভরা উপহার নিয়ে হাজির হওয়া সান্তা ক্লজ। ক্রিসমাস ট্রি থেকে সান্তা ক্লজের পোশাক, বড়দিনের আয়োজনে দেখা যায় লাল ও সবুজ রঙের প্রাধান্য। তবে এই লাল ও সবুজ রঙের নেপথ্যে রয়েছে একাধিক কারন।
আগে মধ্যযুগের গির্জাগুলোয় সচরাচর লাল-সবুজ রঙের পর্দা ঝুলতে দেখা যেত। ধারণা করা হয়, সে সময় এই রংগুলো খুব সহজে পাওয়া যেত বলেই তখন ব্যবহৃত হতো। তবে এর মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে বড়দিনের আয়োজনে লাল ও সবুজ রঙের ব্যবহারের প্রসার ঘটতে থাকে। এরপর ভিক্টোরীয় যুগের (১৮৩৭-১৯০১) লোকজন বড়দিনের সজ্জায় লাল-সবুজ থিমের ব্যবহার অব্যাহত রাখেন।
এই রঙের কারন হিসেবে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্পাইক বাকলো বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেছেন। তিনি মনে করেন, বড়দিনের লাল-সবুজ রঙের উদ্ভব হয়েছে মধ্যযুগে। এই রংগুলো ব্যবহারের পেছনে রয়েছে প্রতীকী অর্থও। যা শুরু হয়েছে বেশ আগে। প্রাচীন কেলটিক জনগোষ্ঠীর মানুষ লাল ও সবুজ রঙের গাছের প্রতি বিশেষ সম্মান প্রদর্শন করতেন। তাঁরা বিশ্বাস করতেন, এই গাছগুলো শীতের রুক্ষতার মধ্যেও পৃথিবীকে সতেজ ও সুন্দর রাখে। এই গাছগুলোকে সুরক্ষা এবং সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন তাঁরা।
পরবর্তীতে বড়দিনের লাল-সবুজ রং বেশি জনপ্রিয়তা পায় কোমল পানীয় প্রস্তুতকারী কোম্পানি কোকা–কোলার মাধ্যমে। ১৯৩১ সালে প্রতিষ্ঠানটির একটি বিজ্ঞাপনে উজ্জ্বল লাল পোশাক পরা শ্বেতশুভ্র-শ্মশ্রুমণ্ডিত হাস্যোজ্জ্বল একজন বয়স্ক ব্যক্তিকে দেখা যায়, আর এ ছবির পেছনের দেয়ালটি ছিল সবুজ রঙের। বিজ্ঞাপনটি সে সময় এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে এরপর থেকে সবার কাছে ছবিটিই সান্তা ক্লজের আদর্শ অবয়ব হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। এরপর বিপণিবিতানগুলোও বড়দিনের রং হিসেবে লাল-সবুজ ব্যবহার করতে শুরু করে।