নিজস্ব প্রতিনিধি : প্রেমের ফাঁদে পা দিয়ে ৪ কোটি টাকা খোয়ালেন প্রেমিকা ! কথাতেই আছে প্রেম অন্ধ..। প্রেমে বাধা বয়স কিছুই মানে না। ভালবাসার প্রমাণ দিতে সর্বস্বান্ত হতে হল এক বৃদ্ধাকে। ৭ বছর ধরে প্রেমিককে সামনা-সামনি দেখেন নি ৬৭ বছর বয়সী প্রেমিকা। প্রেমিককে না দেখেই ভালোবেসে ফেলেছিলেন ওই বৃদ্ধা। সময়ে অসময়ে টাকা দিয়ে সাহায্য করেছেন সেই প্রেমিককে। কিন্তু এভাবে যে ঠকতে হবে তা স্বপ্নেও ভাবতে পারেন নি ওই বৃদ্ধা।
ঘটনাটি ঘটেছে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে। ২০১৭ সালে ফেসবুকে এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয় ওই বৃদ্ধার। তখন ওই যুবক নিজেকে আমেরিকার শিল্পপতি বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। তার প্রোফাইল থেকেই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট এসেছিল। যুবকের ছবি দেখে বেশ মনে ধরে বৃদ্ধার। ধীরে ধীরে দুজনের মধ্যে প্রেমের কথা শুরু হয়। প্রথমে বন্ধুত্ব এরপর প্রেম। অনলাইনে ওই বৃদ্ধাকে প্রেম নিবেদন করেন অভিযুক্ত ওই যুবক।
যাচাই বাছাই না করেই প্রস্তাবে হ্যাঁ বলে দেন বৃদ্ধা। অনলাইনের দুজনের সম্পর্ক আরও গভীর হয়। অভিযোগ, তারপরই ধীরে ধীরে টাকা চাওয়া শুরু করেন অভিযুক্ত যুবক।গত ৭ বছরে মোট ৩০৬ বার প্রেমিককে টাকা পাঠান ওই বৃদ্ধা।এই অর্থ জোগাতে কখনও তিনি ব্যাংক থেকে লোন নিয়েছেন কখনও বা আত্মীয়দের থেকে ধার করে বসেছিলেন।আর্থিক সংকটে এখন ভুক্তভোগী ওই বৃ্দ্ধা।
যখন তাঁর সন্দেহ হয় তিনি ঠকে যাচ্ছেন,তখন তিনি সোজা পুলিশে খবর দেন।তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, সামাজিক মাধ্যমে অন্য ছবি দিয়ে রেখেছিল অভিযুক্ত যুবক। ভুক্তভোগী ওই বৃদ্ধার মোট ৫০টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। নানান সময়ে ওই অ্যাকাউন্ট গুলি থেকে অভিযুক্ত যুবককে টাকা পাঠিয়েছিলেন তিনি।
ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, এত বছর ধরে সম্পর্কে কেন মুখ খোলেন নি ওই বৃদ্ধা। কেনই বা ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই না করে ফাঁদে পা দিয়েছেন তিনি। একবারও কেন দেখা করেন নি ছদ্মবেশি ওই যুবকের সঙ্গে। এই প্রশ্নের উত্তরে ওই বৃ্দ্ধা জানান, ‘না দেখেই মন থেকে ভালবেসেছিলাম। তাই দেখা করার কখনো ইচ্ছা হয় নি। ভয় হত যদি দেখা করার পর প্রেমের সম্পর্ক না টিকত। তাই এতবছরেও একবারও দেখা করি নি।’