নিজস্ব প্রতিনিধি : চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুর গ্রেফতারি নিয়ে প্রতিবাদে উত্তাল বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সমাজ। ইতিমধ্যেই সন্ন্যাসীর জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে বাংলাদেশ আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবার চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুকে বহন করা প্রিজন ভ্যান আটকে দিল ইসকনের সমর্থকরা।
জামিন নামঞ্জুরের পর চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুকে প্রিজন ভ্যানে তোলা হলেও কয়েক’শ ইসকন সমর্থক ঘিরে রেখেছে প্রিজন ভ্যানটি। তাঁরা প্রিজন ভ্যান ঘিরে নানা ধরনের স্লোগান দিচ্ছেন। ইতিমধ্যেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরা এসে উপস্থিত হয়েছে। তাঁরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন।
মঙ্গলবার(২৬ নভেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম মহানগর আদালত ভবনের সামনে বিক্ষোভে অংশগ্রহন করেছে চিন্ময় প্রভুর আইনজীবীরাও। তবে আদালতের নিরাপত্তায় সকাল থেকে পুলিশ-বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছিল। গতকাল সোমবার (২৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ও চট্টগ্রামের পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীকে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।
সম্প্রতি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে বহিষ্কার করে ইসকন(আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ) বাংলাদেশ। এরপরেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিকে বাংলাদেশি সনাতনী জাগরণ মঞ্চের নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর গ্রেফতার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত সরকার।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারকে হিন্দুসহ সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও জমায়েতকে বৈধতা দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে ওই বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে হিন্দুদের পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের ওপর একাধিক আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ভাঙচুর লুটপাট ও হিন্দুদের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। যথেচ্ছ লুটপাট ও অন্যান্য অপরাধ বেড়েই চলেছে বাংলাদেশে। একাধিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও মন্দিরেও হামলা চালানো হয়েছে। হিন্দুদের ওপর লাগাতার আক্রমণের প্রতিবাদে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতন জাগরণ জোটের পক্ষে মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস শান্তির দাবিতে আন্দোলনে রাজপথে নেমেছিল।সেই সময় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুধু তাই নয় মঙ্গলবার তার জামিন নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। লাগাতার আক্রমণের ঘটনার পর যখন বাংলাদেশের সনাতনী হিন্দুরা জোট বদ্ধ হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে তারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে সেই বিক্ষোভের উপরেও আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস কে যেভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তার জামিন নাকচ করা হয়েছে এই ঘটনায় ভারত সরকার যথেষ্ট উদ্বিগ্ন।