আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ব্রিটেনের অভিজাত বিপণিবিতান হ্যারোডসের একসময়ের মালিক মোহামেদ আল ফায়েদের (মিসরীয় ধনকুবের) বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। এক নয়-দুই নয়, শত শত নারী যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন। এই অভিযোগকারীদের মধ্যে আছেন জেন ও চেস্কা। এই দুই নারী বার্তা নিজেদের যৌন নির্যাতনের কথা তুলে ধরে অভিযোগ জানিয়েছেন, আল ফায়েদের বিচার হয়নি।
এই দুই নারী ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশ দেখিয়ে বলেছেন, প্রয়াত ধনকুবের আল ফায়েদের কুকর্মের বিচার হয়নি। তিনি তিনি কৃতকর্মের জন্য শাস্তি না পাওয়ায় বহু নারী আজও বিচার পান নি। যদিও ২০২৩ সালে ৯৪ বছর বয়সে মারা যান আল ফায়েদ।
অভিযোগকারী জেন মাত্র ১৬ বছর বয়সে লন্ডনে হ্যারোডসের স্টোরে জয়েন করেছিলেন।হ্যারোডসের নামডাক বিবেচনায় তখন এই কাজ তাঁর কাছে ‘স্বপ্নের চাকরির’ মতো লাগছিল।কিন্তু এই স্বপ্নের চাকরির জন্য জেনকে নানান ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। জেনের বর্তমান বয়স এখন ৫৪ বছর।
জেন লন্ডনের স্টোরটিতে ১৯৮৬ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত কাজ করেছিলেন। অন্যদিকে চেস্কা ১৯৯৪ সালে আল ফায়েদের প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করেছিলেন। তখন চেস্কার বয়স ছিল ১৯ বছর। তাঁদের কথায়, চাকরির জন্য যখন তাঁদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল, তখন সেখানে উপস্থিতি ছিলেন খোদ আল ফায়েদ। চেস্কা জানান তাঁর সঙ্গে হ্যারোডস থেকে যোগাযোগ করার আগেই আল ফায়েদের লোকজন একটি ম্যাগাজিনে তাঁর ছবি দেখেছিলেন। আবেদনের সঙ্গে চেস্কার যোগত্যা মিলে যায়। নিয়োগের পর হ্যারোডসের একজন চিকিৎসক চেস্কা ও জেনের ‘গাইনোকোলজিক্যাল’ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছিলেন।
তখন তাঁদের বয়স ছিল খুব অল্প। তাঁরা তরুণ ও খুব সরল ছিলেন। তখন কুমারিত্ত্ব পরিক্ষা করা হয়েছিল। তখন যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছিল তাঁরা। চেস্কা আরও জানান তিনি একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী অভিনেত্রী ছিলেন। আল ফায়েদের ছেলে দোদি ছিলেন প্রযোজক। আল ফায়েদ তাঁকে(চেস্কা) তাঁর ছেলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। একদিন কাজ শেষে সন্ধ্যায় ৬০ বছর বয়সী আল ফায়েদ চেস্কাকে তাঁর ঘরে নিয়ে যান। একটি চলচ্চিত্রের জন্য তাঁর অডিশন নেন। সেখআনে জোর করে চুমু খান আল ফায়েদ। জড়িয়ে ধরে যৌন সম্পর্ক করতে চেয়েছিলেন।
অভিযোগকারী দের আইনজীবীরা গত শুক্রবার জানান, হ্যারোডস, ফুলহ্যাম ফুটবল ক্লাব, প্যারিসের রিটজ হোটেলসহ আল ফায়েদের মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন—এমন ৪০০ জনের বেশি নারী। তিনি তাঁদের ধর্ষণ, নিপীড়ন বা লাঞ্ছিত করেছেন।