নিজস্ব প্রতিনিধি: অতিবৃষ্টির কষ্ট ভুলে দুর্গাপুজোর পর আলু চাষে মন দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন বর্ধমানের আলু চাষীরা(Potato Farmers)। কিন্তু সেগুড়ে বালি। ঘূর্ণিঝড় ‘ডানা’-র(Cyclone Dana) প্রকোপে জলমগ্ন হয়ে গিয়েছে বিঘের পর বিঘে জমি। এমতাবস্থায় আলু চাষ সম্ভব নয় বলেই জানাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। ৩৬ প্রজাতির স্বল্প দিনের ধান জমি থেকে তোলার পরেই ওই জমি গুলিতে পোখরাজ প্রজাতির আলু চাষ শুরু হয়ে যায়। কিন্তু এবছর নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও আলু চাষের কাজ এতটুকু এগোয়নি, আফশোস কৃষকদের।
আরও পড়ুনঃ সবজির মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে আজ নবান্নে টাস্ক ফোর্সের বৈঠক
পোখরাজ প্রজাতির আলু মাত্র ৬০ থেকে ৭৫ দিনের মধ্যেই জমি থেকে তোলা যায়। তবে এই আলুর স্থায়িত্ব সাময়িক, তোলার কিছুদিনের মধ্যেই এই আলু ব্যবহার করে ফেলতে হয়, এগুলি হিমঘরে রাখা যায়না। বছরের এই সময়টায় পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড়ের ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক বরাবর এলাকা থেকে জৌগ্রাম, মশাগ্রাম পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে শুধুই সবুজ শাক বিশিষ্ট আলুর জমি চোখে পড়ত। কিন্তু চলতি বছর এই এলাকার চিত্রটা একেবারেই অন্যরকম। জমিতে এখনও বৃষ্টির জল দাঁড়িয়ে রয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা জানাচ্ছেন, আর যদি বৃষ্টি নাও হয় তাহলেও আলু চাষ শুরু করতে অন্তত একমাস অপেক্ষা করতে হবে। আর যদি এর মধ্যে বৃষ্টি হয় তাহলে আলুর চাষের পরিকল্পনা স্থগিত রাখতে হবে।
আরও পড়ুনঃ গল্প নয় সত্যি, ঘরে বসে মাত্র ১০ টাকায় কিনে নিন সোনা
কৃষকরা এও জানান, গত বছর আলুর চাষ করেও লোকশানের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁদের। গত বছরেও বৃষ্টির কারণে আলুর গাছ পচে গিয়েছিল যার জেরে ফলন ভালো হয়নি। আর এবার ঘূর্ণিঝড়ের কারণে একদিকে ধান নষ্ট হয়েছে অন্যদিকে জমা জলের কারণে আলুর চাষ শুরু করাও সম্ভব হচ্ছে না। বৃষ্টির জল সরে গেলেও মাটি শুকোনোর জন্য অপেক্ষা করতে হবে। পুরোপুরি মাটি শুকোলে তবেই আলু চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করা যাবে। যদিও জেলা কৃষি আধিকারিক নকুলচন্দ্র মাইতির দাবি, ‘আলু চাষে ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। জল জমি থেকে নেমে গেলেই ধীরে ধীরে আলু চাষের জন্য জমি তৈরি হবে। পোখরাজ মাত্র ৬০ থেকে ৬৫ দিনের আলু। সুতরাং সময় আছে। ফলন কমারও সম্ভাবনা নেই।’