নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনীতিতে যাতে আর কোনও দিন প্রত্যাবর্তন না করতে পারেন শেখ হাসিনা, তার জন্য কোমর কষে ঝাঁপিয়েছে পাকিস্তান ও মার্কিন মদতপুষ্ঠ অন্তর্বর্তী সরকার। সূত্রের খবর, কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহতদের ‘খুনি’ হিসাবে দোষী সাব্যস্ত করে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে ফাঁসির সাজা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর চলতি বছরের বিজয় দিবসের প্রাক্কালে অর্থাৎ ১৫ ডিসেম্বরই আন্তর্জাতিক অপররাধ ট্রাইব্যুনালের তরফে মুজিব কন্যার ফাঁসির সাজা ঘোষণা করা হবে। গতকাল বুধবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রিফাত আহমেদের সঙ্গে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের বৈঠকেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, হাসিনার তরফে কোনও আইনজীবী নিয়োগ না করা হলে সরকারের তরফেই শিখণ্ডী হিসাবে কোনও আইনজীবীকে দাঁড় করানো হবে। তিনিও যাতে সররকারের প্রধান কৌঁসুলি তাজুল ইসলামের কথায় সায় দেন, তা নিশ্চিত করা হবে।
গত ৫ অগস্ট সেনা বিদ্রোহের মুখেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ৫২টির বেশি মানবতা লঙ্ঘন ও খুনের অভিযোগ জমা পড়েছে। মূলত কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহতদের তরফেই ওই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আন্তরর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেই পলাতক শেখ হাসিনার বিচার করা হবে। আর তার জন্য শুরু হয়েছে ট্রাইব্যুনালের ভবন সংস্কারের কাজ। তবে সমস্যা দেখা দিয়েছে অন্যত্র। এই মুহুর্তে ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারক বা দুই সহকারী বিচারকের পদ শূণ্য। ফলে বিচারক নিয়োগ কররতে হবে।
সূত্রের খবর, শেখ হাসিনার বিচার ফেলে রাখতে রাজি নয় অন্তর্বর্তী সরকার। তাই গত কয়েকদিন ধরেই মুজিব কন্যার বিচার নিয়ে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে সরকারের তরফে। শেখ হাসিনার জমানার অবসানের পরেই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে জামায়াত ইসলামীর সঙ্গে জড়িত সৈয়দ রিফাত আহমেদকে। যিনি পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের বিশ্বস্ত হিসাবেই বাংলাদেশ আইনজীবী মহলে পরিচিত। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ইতিমধ্যেই প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করে জামায়াত কিংবা বিএনপির কট্টর সমর্থক হিসাবে পরিচিত কাউকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারক ও সহযোগী বিচারক হিসাবে নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, প্রতিদিন যাতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের শুনানি হয় তাও নিশ্চিত করতে বলেছেন।
প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠকের পরে আইন উপদেষ্টা জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন হবে। তার পরেই শেখ হাসিনার বিচার শুরু হবে। যাতে দ্রুত বিচার সম্পন্ন হয়, সে দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য অপেক্ষা করা হবে না। প্রয়োজনে তাঁর অনুপস্থিতেই মামলার শুনানি ও সাজা ঘোষণা করা হবে।