নিজস্ব প্রতিনিধি: কথায় আছে, শিল্পীর কোনও জাতপাত নেই। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসিতে ডাণ্ডিয়া অনুষ্ঠান ছেড়ে দিতে বাধ্য হলেন মুসলিম সঞ্চালিকা। নবরাত্রিতেও চলছে জাফরান সংগঠনের অত্যাচার। জাতপাতের বিচারে এখনও মানুষ ভ্রষ্ট হয়ে রয়েছেন। হিন্দুদের অনুষ্ঠানে মুসলিমরা নিষিদ্ধ, আর মুসলিম অনুষ্ঠানে হিন্দুদের জায়গা নেই, এমন প্রথা যেন কিছু কিছু মানুষ নিজেই তৈরি করে ফেলেছেন। সেই কারণে ভারতবর্ষ ঐক্যবদ্ধ দেশের তকমা দিনে দিনে হারাচ্ছে। হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা দেশ ছেড়ে যাচ্ছে না। এবার আরও একটা ঘটনায় মুখ পুড়ল উত্তরপ্রদেশের। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের কানপুরে একটি ‘গরবা, ডাণ্ডিয়া’ অনুষ্ঠানে প্রবেশের চেষ্টা করায় একটি মুসলিম যুবককে ব্যপক মারধর করে জাফরান সংগঠনের সদস্যরা। এই মর্মান্তিক ঘটনার দিন কয়েক পরেই এলো আরও একটি মুসলিম বর্বরতার প্রতিচ্ছবি সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসিতে ডাণ্ডিয়া অনুষ্ঠানে মুসলমান সঞ্চালিকাকে ডাকা হলে এলাকায় ফের অত্যাচার শুরু হয় জাফরান সংগঠনের।
একটি সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এদিন ঝাঁসির একটি হলে ডাণ্ডিয়ার আয়োজন করা হলে সেখানে সঞ্চালনার জন্যে ডাকা হয়েছিল একজন মুসলিম সঞ্চালিকাকে। তিনি সেখানে পৌঁছনো মাত্রই মুসলিম সঞ্চালিকাকে দেখে অনুষ্ঠানের মাইক বন্ধ করে দেয় হলের মালিক। বিদ্যুৎ কেটে দেওয়া হয়। এবং জানায়, অনুষ্ঠান থেকে সঞ্চালিকাকে না তাড়ানো হলে কিছুতেই ডাণ্ডিয়া অনুষ্ঠান শুরু হবেনা। এ বিষয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজক ময়ঙ্ক অনুরাগী জানান যে, অনুষ্ঠানস্থলের মালিক তাঁকে স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছিলেন যে, মুসলিম সঞ্চালিকা অনুষ্ঠান হল ছেড়ে না যাওয়া পর্যন্ত তিনি সাউন্ড সিস্টেম এবং বিদ্যুৎ অন করবেন না।
রিপোর্ট অনুযায়ী, এরপর মহিলা মুসলিম সঞ্চালিকা অনুষ্ঠান স্থল থেকে ছেড়ে যাওয়ার পর ডাণ্ডিয়া অনুষ্ঠান শুরু করা হয়। এমনকী ওই সঞ্চালিকার পোস্টার, ব্যানার লাগানো হয়েছিল। এমনকী অনুষ্ঠানের দিন তাঁর নামও ঘোষণা করা হয়েছিল। আয়োজন বলেন, ‘শিল্পীরা কোনও জাত বা ধর্মের হয় না। আমি অতীতে এমন অনেক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি। আমি ভারতীয় সংস্কৃতির প্রচার করতে চাই। কিন্তু এমন ঘটনার মুখোমুখি কখনওই হতে হয় নি আমার।’ এর আগেও ঝাঁসিতে এমন ডাণ্ডিয়া অনুষ্ঠানে মুসলিম যুবক ঢোকার চেষ্টা করা হলে তাঁর আধার কার্ড দেখে তাঁকে মারধর করা হয়। এই ঘটনা ঘটিয়েছিলেন জাফরান সংগঠন। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে এবং মামলা দায়ের করা হয়েছে।