নিজস্ব প্রতিনিধিঃ উত্তরপ্রদেশে ফের নারকীয় ঘটনা। যোগীরাজ্যের বাহরাইচ জেলার নানপাড়া থানার অন্তর্গত তাজপুর তেদিয়া গ্রামের একটি মর্মান্তিক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। যেখানে দুটি পোল্ট্রি ফার্মের মালিক দলিত সম্প্রদায়ের ৩ ছেলেকে ৫ কেজি গ্রাম চুরির সন্দেহে ব্যপক মারধর করার পর তাঁদের ন্যাড়া করিয়ে গোটা গ্রামে প্যারেড করিয়েছে বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, দলিত সম্প্রদায়ের ৩ কিশোরের মুখে কালি মাখিয়ে তাঁদের গ্রাম ঘুরিয়েছে ওই ফার্মের মালিকরা।
এমন দুঃসাহসিক ঘটনা দেখে অবাক হয়ে গিয়েছেন পুলিশ কর্তৃপক্ষও। ভুক্তভোগীদের পরিবার দাবি করেছে যে, শুধু চুরির সন্দেহ নয়, আহত কিশোররা কয়েকদিন কাজে যেতে পারেনি, এবং সে কথা না জানানোর কারণে বেধড়ক মারধর করেছে ওই পোল্ট্রি ফার্মের মালিকরা। পুলিশের কথায়, নির্যাতিত দলিত ছেলে গুলোর বয়স ১২-১৪ বছর। তাঁদের কাজে না যাওয়ার কারণ, সঙ্গে ৫ কেজি গম চুরির সন্দেহে তিনজন ছেলেকে প্রথমে ব্যপক মারধর করা হয়, এরপর তাঁদের মাথা কামিয়ে, মুখে কালি মাখিয়ে সারা গ্রামে ঘোরানো হয়। এবং তাঁদের বাহুতে লিখে দেওয়া হয়, তাঁরা চোর। তাঁদের হাত বেঁধে গ্রামের চারপাশে প্যারেড করানো হয়।
নানপাড়ার SHO প্রদীপ সিং জানিয়েছেন, নির্যাতিতা দের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং SC/ST-এর প্রাসঙ্গিক ধারায় চার অভিযুক্ত, নাজিম খান, কাশাম খান, ইনায়াত খান, শানুর বিরুদ্ধে নৃশংশ প্রতিরোধ আইনের পরিপ্রেক্ষিতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে ইতিমধ্যেই ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং শানু পলাতক। ভুক্তভোগীরা বুধবার একটি সংবাদমাধ্যমকে তাঁদের উপর অত্যাচারের ঘটনার বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, তাঁদের উপর রাগ ছিল বর্ণবাদী হওয়ার। মাথা ন্যাড়া করে, গ্রামের চারপাশে ঘোরানোর আগে তাঁদের বৈদ্যুতিক তার গলায় পেঁচিয়ে হত্যার ফন্দি এঁটেছিল অভিযুক্তরা।এবং তাঁদের মৃত্যু হুমকিও দেওয়া হয়। এমনকী এই ঘটনার পুরো দৃশ্য অভিযুক্তরা মোবাইলে ক্যামেরাবন্দি করে নেয় বলেও জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। তবে ওই ছেলেগুলিকে মাঝে মধ্যেই দলিত বলে তাঁরা অত্যাছার চাহালাত বলে নির্যাতিতার পরিবারের দাবি। আর এদিন তাঁদের উপর অত্যাচার চরমে ওঠে। আদতে তাঁদের হত্যার ফন্দি এঁটেছিল অভিযুক্তরা, টাই ওই গম ছুরির ঘটনা নিছকই বাহানা ছিল। ইতিমধ্যেই পুলিশ বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছে।