নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: কোটা সংস্কার আন্দোলনের জেরেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কুর্সি হারাতে হয়েছিল শেখ হাসিনাকে। গত জুলাই থেকে অগস্টের ৪ তারিখ পর্যন্ত কোটা সংস্কার আন্দোলনে প্রাণ হারিয়েছিলেন বহু ছাত্র-সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মী। পুলিশ-বিজিবির গুলিতে আহত হয়েছিলেন কয়েক হাজার। যদিও এখনও আহত ও নিহতদের সংখ্যা স্পষ্ট করে জানা যায়নি। এবার কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারের দিকে আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল অন্তর্বর্তী সরকার। বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, কোটা আন্দোলনে নিহতদের পরিবারকে এককালীন পাঁচ লক্ষ টাকা এবং আহতদের পরিবারকে এককালীন এক লক্ষ টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
গত ৫ অগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পরেই কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারকে সাহায্যের জন্য তড়িঘড়ি গঠন করা হয়েছিল জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন। ওই ফাউন্ডেশনের সভাপতি হযেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। আর সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন মীর মাহাবুবুর রহমান। গত মঙ্গলবারই ফাউন্ডেশনকে ১০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল দেওয়ার ঘোষণা করেন প্রধান উপদেষ্টা।
বুধবার যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবনে বসেছিল ফাউন্ডেশনের প্রথম বৈঠক। ওই বৈঠকেই নিহতদের পরিবারকে এককালীন ৫ লক্ষ ও আহতদের এককালীন এক লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগেই বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক। ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে এক মনগড়া রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, কোটা আন্দোলনে প্রাণ হারিয়েছেন ৮০০ জন। আর আহত হয়েছেন ২০ হাজারের বেশি। রাজধানী ঢাকায় এক স্মরণ সভার আয়োজন করে নিহতদের পরিবারের হাতে আর্থিক সাহায্যের চেক তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।