নিজস্ব প্রতিনিধি : এআই প্রযুক্তি বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে কিনা সম্ভব হচ্ছে না ? চোখের পলকে গল্প, প্রত্যাশিত ছবি থেকে শুরু করে বড় বড় ডকুমেন্টারি কাজও নিমেষে করে ফেলছে। দৈনন্দিন জীবনের নানান সমস্যার উপায়ও বাতলে দিতে সক্ষম এই এআই। মানুষের সহকারী বন্ধুতে পরিণত হয়েছে এআই। তবে এবার খাবারেও বা বাদ যাবে কেন ? এআই কী খাবারের বিষয়েও জানে নাকি ? রান্নাবান্না তো কৌশল করে শিখতে হয়। একটা আর্টও বলা যেতে পারে। আপনি যদি ভেবে থাকেন এআই রান্নার বিষয়ে কিছু জানে না, তবে হয়তো কিছুটা ভুল ভাবছেন। এই নিয়ে এআই প্রযুক্তির সহায়তায় রেস্তোরা মালিকরা বিভিন্ন নতুন মেনু বানিয়ে ফেলছেন। অবশ্য সব গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে। এমন পরিক্ষায় এআই নিজের মেধা দেখালেও তা একেবারে ভাল রান্নার তালিকায় জায়গা পায় নি।
এআই নতুন মেনু বানিয়ে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে পারবেন কিনা এই নিয়ে সকলের মনে একটা প্রশ্ন থেকেই যায়। সেটা কী খুব বাজে একটি রেসিপি হবে? প্রশ্নগুলোর জবাব খুঁজতে পরিক্ষা করল বহুজাতিক পিৎজা চেইন ‘ডোডো পিৎজা’।
তারা দুবাই শাখায় মোবাইল অ্যাপে চ্যাটজিপিটিভিত্তিক ‘ফ্লেভার জেনারেটর’ চালু করেছে। এই অ্যাপটি জেনারেটিভ এআইকে ৩৫টি উপকরণের সাহায্যে নিত্যুনতুন পিৎজা রেসিপি বাতলে দেয়। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল হিসাব বলছে, এই ৩৫টি উপকরণ মিলিয়ে তিন কোটি ধরনের পিৎজার রেসিপি পাওয়া সম্ভব।
পরীক্ষার অংশ হিসাবে ডোডো পিৎজার দুবাই শাখার প্রধান স্পার্টাক আরতুনিয়ান চ্যাটবটকে এমন এক পিৎজা রেসিপি তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা ‘দুবাইয়ের জন্য সেরা হবে’। এটা এমন কেউ এর আগে খাই নি। তবে এই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখালো এআই।
দুবাইয়ে থাকা ৩০ লক্ষ মানুষের মধ্যে ৯০ শতাংশই অভিবাসী। তাই এখানে বহু ধরনের সংস্কৃতি দেখা যায়। যেমন- ভারতীয়, পাকিস্তানি, ফিলিপিনো, আরব এমনকি ইউরোপীয় লোকজনদেরও সংস্কৃতির চল দেখা যায় এখানে।
শেফ আরতুনিয়ান চ্যাটজিপিটিকে এমন একটি পিৎজা তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন, যেখানে এই সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির বিষয়টি ফুটে ওঠে। এর জবাবে চ্যাটবটটি ভিন্ন পিৎজার রেসিপি দিয়েছিল। এর মধ্যে ছিল আরবের শর্মা চিকেন, ভারতীয় গ্রিলড পনির চিজ, মধ্যপ্রাচ্যের ‘জাতার’ হার্ব ও তাহিনি সস। আর এতেই মজে গেছেন ডোডো পিৎজার গ্রাহকেরা।
এই নিয়ে শেফ আরতুনিয়ান জানিয়েছেন,‘আমি কখনই এইসব উপকরণ পিৎজার সঙ্গে দেব না। কিন্তু, বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, এগুলো মিলিয়ে যে স্বাদ তৈরি হয়েছে সেটি কিন্তু দুর্দান্ত ছিল।’ যদিও এআইয়ের তৈরি করা বেশ কয়েকটি রেসিপিই তাঁদের মেনুতে রাখা হয়নি। উদাহরণ হিসেবে ধরা যায়, স্ট্রবেরি ও পাস্তা এবং ব্লুবেরি ও ব্রেকফাস্ট উপকরণের মিশ্রণে তৈরি পিৎজা।
তেমনই যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে অবস্থিত রেস্তোরা চেইন ‘ভেলভেট টাকো’তে এআই নিয়ে একই ধরনের নিরীক্ষা চালিয়েছেন এর কালিনারি ডাইরেক্টর ভেনেসিয়া উইলিস। এআই এর তৈরি চ্যাটবটটি থেকে চিংড়ি এবং স্টেকের একটি টাকো বাছাই করে তা বিক্রি শুরু করেন তিনি। যা মাত্র এক সপ্তাহেই বিক্রি হয়েছে ২২ হাজারটি। তবে তিনি জানান, ‘খাবার তৈরিতে মানুষের ছোঁয়া থাকা জরুরী। খাবার তৈরির ক্ষেত্রে এআই উপর নির্ভর করা ঠিক নয়।’