নিজস্ব প্রতিনিধি: অফিস টাইমে ভরা যাত্রীবোঝাই মিনিবাস রেললাইনের ওপরে থাকা বিপদজনক সেতুর ডিভাইডারে উঠে পড়ল অন্য একটি বাসের সঙ্গে রেষারেষি করতে গিয়ে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা নাগাদ সেই ঘটনা ঘটে হাওড়া শহরের(Howrah Town) শালিমার(Shalimar) এলাকায়। আন্দুল রোডের(Andul Road) ওপরে থাকা ওই সেতুটি কার্যত বিদ্যাসাগর সেতুর(Vidyasagar Setu) অ্যাপ্রোচ রোডের অংশ যা আন্দুল রোড এবং কলেজ রোডকে যুক্ত করেছে জি টি রোড, কোনা এক্সপ্রেসওয়ে এবং বিদ্যাসাগর সেতুর সঙ্গে। আন্দুল রোড দিয়ে যাতায়াত করা যে কোনও বাসকেই ওই সেতুর ওপর দিয়ে যেতে হয়। সেতুটির অবস্থা সেভাবে ভালোও নয়। দুর্ঘটনার বহর দেখে এদিন অনেকেই জানিয়েছেন, বাসটি যে সেতুর রেলিং ভেঙে নীচের লাইনে পড়েনি এটাই অনেক বড় বিষয়।
জানা গিয়েছে, এদিন সকাল ১০টা নাগাদ বি গার্ডেন ধর্মতলা রুটের একটি মিনিবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শালিমারের ৩ নম্বর রেলগেটের পাশেই থাকা ওই সেতুর ফুটপাতে উঠে পড়ে। ওই ফুটপাতটি কার্যত সেতুতে ডিভাইডারের কাজ করে। দুর্ঘটনার জেরে ওই বাসে থাকা ২জন যাত্রীর মাথা ফেটে যায়। তাঁদের তড়িঘড়ি করে নিয়ে যাওয়া হয় হাওড়া জেলা হাসপাতালে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় হাওড়া সিটি পুলিশের ট্রাফিক অফিসাররা। বাসটিকে আটকও করেছে পুলিশ। এই দুর্ঘটনার জন্য যানচলাচলের ওপর প্রভাব পড়ে। অফিস টাইমে সংশ্লিষ্ট রাস্তায় বেশ কিছুক্ষণ যানচলাচল ব্যাহত হয়। সমস্যায় পড়েন অফিস এবং কলেজযাত্রীরা। প্রায় আধঘণ্টা পর পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
রেষারেষির কারণেই কি এই দুর্ঘটনা? উত্তর খুঁজছে পুলিশ। যাত্রীদের একাংশের অভিযোগ, মিনিবাসটির গতি বেশি ছিল এবং তা রেষারেষিতে গিয়েছিল অপর একটি বাসের সঙ্গে। বারবার চালককে এই বিষয়ে সচেতন করেন যাত্রীরা। কিন্তু, তাতে তিনি কর্ণপাত করেননি। বরং জোরে বাস চালাতে থাকেন। আর তার ফলস্বরূপ এই দুর্ঘটনা। এই দুর্ঘটনায় চালকের ভূমিকা ঠিক কী ছিল? গাড়িটির গতিই বা কত ছিল? তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এদিন বড় বিপদ এড়ানো গিয়েছে বাসটি সেতুর রেলিং ভেঙে নীচে না পড়ে যাওয়ায়। সেইরকমের ঘটনা ঘটলে অনেক বেশি মানুষ হতাহত হতেন। হাওড়া স্টেশনের ওপর বঙ্কিম সেতুতে একবাস এই ধরনের এক দুর্ঘটনায় অনেকে মারা গিয়েছিলেন।