নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: উত্তরে দুর্যোগ। সকাল থেকেই জলপাইগুড়ি জেলা জুড়ে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টিপাত চলছে। মেঘলা আকাশ, অন্ধকার নেমে এসেছে গোটা এলাকায়। ভোররাত থেকেই জলপাইগুড়ি, ধুপগুড়ি(Dhupguri) সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বিগত কয়েকদিন থেকে একটানা বৃষ্টিতে সাধারণ জনজীবন ব্যাহত। জলপাইগুড়ির করলা নদীর জল বাড়ার কারণে মঙ্গলবার রাতে ফের জলপাইগুড়ি পুরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ড নেতাজিপাড়া পরেশমিত্র কলোনির বেশ কিছু অংশতে করলা নদীর জল ঢুকে পরে। চিন্তা বাড়াচ্ছে নদী সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের। বুধবারও ফুঁসছে তিস্তা,জলঢাকা সহ জেলার একাধিক নদী।
তিস্তার(Tista) মেখলিগঞ্জ অসংরক্ষিত এলাকায় এবং জলঢাকা এনএইচ ৩১ নদীতে লাল সর্তকতার পাশাপাশি এবং জলঢাকা নদীর সংরক্ষিত এলাকায় হলুদ সতর্কতা রয়েছে। তিস্তা নদীর দোমহানীতে অসংরক্ষিত এলাকায় হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে। বুধবার সকাল ৬ টায় জলপাইগুড়ি গজলডোবা(Gajoldoba) তিস্তা ব্যারেজ থেকে ১৮২০.৬২ কিউমেক জল ছাড়া হয়েছে বলে সেন্ট্রাল ফ্ল্যাড কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে।এদিকে,শাক সবজির অগ্নি মূল্যের বৃদ্ধি।উত্তরের জেলাগুলিতে লাগাম ছাড়া শাক সবজির মূল্যবৃদ্ধি হওয়ায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি দ্রুত এই সমস্যার সমাধানের নির্দেশ দেন।আগামী ১০ দিনের মধ্যে এই অগ্নিমূল্য বৃদ্ধির কিছুটা রেশ কাটবে বলে পরিষ্কার জানিয়ে দেন।আগামী দিন দশেক ধরে উত্তরের জেলাগুলিতে প্রতিনিয়ত বৃষ্টি ক্রমশই বেড়েই চলছিল। সেই মতো শাকসবজির মূল্যবৃদ্ধি বেড়ে যায়। সমস্যায় বিক্রেতা থেকে ক্রেতারা সকলে।
মঙ্গলবার নবান্ন(Nabanno) থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, আর তারপরেই জলপাইগুড়ি জেলার পাশাপাশি ধূপগুড়ির পুলিশ প্রশাসন এবং ধূপগুড়ি মহকুমা শাসক পুষ্পা দোলমা লেপচা স্থানীয় সবজি বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে আগামী ১০ দিনের মধ্যে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে শাক সবজির (Vegetables)দাম কমবে বলে জানা যায়।উল্লেখ্য, গত বছর শাকসবজির দাম কেজি প্রতি তুলনায় ২০ থেকে ৩৫ টাকায় মিলতো । এবছর তা বেড়ে বেশিরভাগ সবজির দাম ৫০ থেকে ৮০ টাকা কিলো দরে বিক্রি হচ্ছে। আর এই নিয়েই চিন্তার ভাঁজ পড়েছে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে।ক্রমশই হিমশিম খেতে হচ্ছে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলিকে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পর কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে সকলের মধ্যে।