নিজস্ব প্রতিনিধিঃ- আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বারংবারই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল। বাজারে বাজারে ঘুরছে টাস্ক ফোর্স। কেন এত বাড়ছে আলুর দাম? সেই তদন্তে নেমে আসল সত্যের সন্ধান পেলেন রাজ্যের আধিকারিকরা। হুগলি এবং বর্ধমানের সাতটা বাজারে চলছে ভোটিং চক্র। এই চক্রের দরুন ক্রমাগত বাড়ছে আলুর দাম।
হুগলির তারকেশ্বর, ধনেখালি কুমরুল, বৈচি, ভান্ডারহাটি এবং বর্ধমানের মেমারি, কালনা, বুলবুলিতলায় এই ভোটিং বাজার কমিটির হদিশ মিলেছে। ভোটিং বাজার কমিটির প্রত্যেকটিতে পাঁচ থেকে সাতজন করে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, তারা রোজ সন্ধে ৬টা বেজে ৩০ মিনিট থেকে ৭টার মধ্যে ভোট দিয়ে দাম নির্ধারণ করে। বড় বড় আড়তদার এবং কোল্ডস্টোর মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে এই দাম নির্ধারিত হয়।
নবান্নসূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই এই ভোটিং বাজার কমিটিতে কারা করা রয়েছেন, তাদের তালিকা পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। এই কমিটিত থাকা প্রত্যেকেই বেশ বড় মাপের আলু ব্যবসায়ী হিসাবেই পরিচিত। প্রত্যেকের গত একবছরের মোবাইলের কললিস্ট, তাদের লোকেশান খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
রাজ্যের কৃষি বিপণনমন্ত্রী বেচারাম মান্না বলেন, “রাজ্য সরকার কৃষকদের শস্যবিমা থেকে শুরু করে অন্যান্য সমস্তরকম সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। তা সত্ত্বেও বাজারে আলুর দাম কমছে না। আসলে এর পিছনে মনোপলি একটি চক্র কাজ করছে। যাকে বলা হচ্ছে ভোটিং বাজার কমিটি। এরাই নিজেরা আলুর দাম বাড়িয়ে বাজারে আলু ছাড়ছে। আগের দিন সন্ধ্যাবেলা তারা পরেরদিনের দাম ঠিক করে দিচ্ছে। আমরা এদের হদিশ পেয়েছি। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”