নিজস্ব প্রতিনিধি, ফুরফুরা শরিফ: চার দিনের মধ্যে কলকাতা দখলের হাস্যকর আস্ফালন করেছিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন সেনা আধিকারিকরা। বুধবার ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জীবন দেওয়ার হুঙ্কার ছুড়েছিলেন ওপারের প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিকরা। আর এবার আস্ফালনকারী বাংলাদেশি প্রাক্তন সেনা ও পুলিশ আধিকারিকদের হুঁশিয়ারি দিলেন ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকি। এদিন ভারত বিদ্বেষী বাংলাদেশিদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘যদি পাকিস্তান-বাংলাদেশ হাত মিলিয়ে আমাদের দেশকে চমকাবে বলে মনে করে, তবে সেদিন চলে গিয়েছে। পাকিস্তান হোক বা বাংলাদেশ-কোনও দেশ ভারতের দিকে হাত বাড়ালে, আঙুল তুললে সেই হাত বা আঙুল কেটে নেওয়া হবে। ভারতের এক মুঠো মাটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা যারা করবেন তাদের হাতের কব্জি-ই কেটে নেব।’
শেখ হাসিনা জমানার অবসানের পরে বাংলাদেশ জুড়ে শুরু হয়েছে হিন্দু নিধন যজ্ঞ। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের মদতে বিএনপি ও জামায়াত সন্ত্রাসীরা প্রতিদিনই হিন্দুদের বাড়ি-ঘর-মন্দিরে হামলা চালাচ্ছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হয় পুড়িয়ে দিচ্ছে, না হলে দখল করে নিচ্ছে। বিপন্ন হিন্দুদের হয়ে লড়াই করায় ইসকন সন্ন্যাসী তথা চট্টগ্রামের পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় প্রভুকে মিথ্যা রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ১৬ দিন ধরে চট্টগ্রামের জেলে বন্দি তিনি। আর চিন্ময় প্রভুর গ্রেফতারি নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে শুরু হয়েছে চরম উত্তেজনা। দু’তরফের রাজনেতা থেকে শুরু করে প্রাক্তন উর্দিধারীরা গত কয়েকদিন ধরেই হুঙ্কার-পাল্টা হুঙ্কার দিয়ে চলেছেন। তবে সবচেয়ে হাস্যকর হুঙ্কার ছেড়েছেন বাংলাদেশ সেনার প্রাক্তন মেজর কাজী শরীফ কায়কোবাদ। চার দিনে কলকাতা দখলের হুঙ্কার ছেড়েছেন তিনি।
ওই হুঙ্কারের পাল্টা জবাব দিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। খানিকটা কটাক্ষের সুরে তিনি বলেছেন, ‘ওরা (পড়ুন বাংলাদেশিরা) কলকাতা দখল করে নেবে আর আমরা কী ললিপপ চুষব?’ বুধবার ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকির কাছে বাংলাদেশের হুমকি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ যদি ভারতের একমুঠো মাটি নেওয়ার চেষ্টা করে কব্জি কেটে নেব।’ দুই বাংলা তথা দুই দেশ এতদিন যে শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করছিল, সুখে-শান্তিতে বাস করছিল দু’দেশের নাগরিকরা, সেই সুখ শান্তি ও ঐক্য নষ্ট করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেছেন মুসলিমদের অন্যতম ধর্মীয় গুরু। তাঁর কথায়, ‘অসৎ চরিত্রের রাজনৈতিক নেতারা দুই দেশের মানুষের মধ্যে ঐক্য নষ্টের চেষ্টা করছেন। সেই চেষ্টা ব্যর্থ হবে। দুই দেশের মধ্যে যাঁরা উসকানিমূলক মন্তব্য করছেন, তাঁরা কখনও দেশের ভাল চান না। বাংলার মানুষের কাছে একটাই বার্তা, আগে ধর্মের পরিচয় না দেখে অসৎ চরিত্রের রাজনৈতিক নেতাদের পাল্লায় পড়ে ভাইয়ে-ভাইয়ে সম্পর্ক নষ্ট যেন না করি।’