নিজস্ব প্রতিনিধি, সুতি: একদিকে যখন কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তারি মহিলা ছাত্রীকে নির্মম বীভৎস অত্যাচার করে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত, তখনি আবার সামনে এল মুর্শিদাবাদের সুতি থানার গোপালগঞ্জ-বাজিতপুর এলাকায় একটি প্রাথমিক স্কুলের কয়েকজন ছাত্রীর ওপর শ্লীলতাহানির ঘটনা।সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল সুতিতে। যদিও সেই ছাত্রীদের শ্লীলতাহানির ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে রহিম শেখ(Rahim Sk.) নামে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। আর এই অভিযুক্ত এই শিক্ষককে বাঁচানোর জন্য স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বদরুল ইসলাম নিগৃহীতা বেশ কয়েকটি ছাত্রীদের পরিবারের কাছে অনুরোধ করেন এই ঘটনাটি অপসে মীমাংসা করে মিটমাট করে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
তারপরেই এই খবর এলাকার মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তেই গ্রামবাসীরা স্কুলের সামনে এসে জড়ো হয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।এই বিক্ষোভের খবর পেয়ে সুতি থানার(Suti P.S.) বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্কুলে আটকে পড়া প্রায় ৬ জন শিক্ষককে উদ্ধার করে সুতি থানাতে নিয়ে যায়।জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার জানিয়েছেন- নির্যাতিতা নাবালিকা ছাত্রীদের পরিবারের সদস্যরা থানাতে ডাকা হয়। তবে সন্ধে সাড়ে সাতটা পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে ইতিমধ্যেই নির্যাতিতা দুই ছাত্রীর মেডিক্যাল টেস্টের জন্য তাদের মহেশাইল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নির্যাতিতা এক ছাত্রীর মা অভিযোগ করেন,” গত প্রায় এক বছর ধরে রহিম শেখ নামে এক শিক্ষক বেশ কয়েকজন ছাত্রছাত্রীকে নিয়মিতভাবে ‘অশালীনভাবে স্পর্শ’ করত। ওই শিক্ষক আমার দুই মেয়েকে হুমকি দিয়েছিল এই ঘটনার কথা পরিবারের কাউকে জানালে তাদেরকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। শিক্ষকের ভয়ে এতদিন আমার মেয়েরা চুপ করে ‘অত্যাচার’ সহ্য করেছে। “ওই মহিলা জানান,”গত বুধবার আমার দুই মেয়ে বাড়িতে ফিরে ওই শিক্ষকের ‘অশালীনভাবে স্পর্শ’ করার কথা বলে।” এরপরই নাবালিকা কয়েকজন ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক বদরুল ইসলামকে(Badrul Islam) গোটা ঘটনাটি জানান। নিগৃহীতা ছাত্রীদের পরিবারের অভিযোগ মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের তৃণমূল সদস্যা নাসিমা খাতুনের স্বামী বদরুল ইসলাম তাদেরকে ঘটনাটি কাউকে জানাতে বারণ করেন। তিনি গোটা বিষয়টির মীমাংসা করে দেবেন বলে জানিয়েছিলেন।অভিযোগ এর পরেও কোনও মীমাংসা না হওয়াতে শুক্রবার দুপুরে কয়েক’শ অভিভাবক স্কুলে গিয়ে শিক্ষকদেরকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। নির্যাতিতা এক নাবালিকার মা জানিয়েছেন- ইতিমধ্যেই তারা রহিম শেখের বিরুদ্ধে সুতি থানাতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।শনিবার থেকে সুতি থানা নির্দিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।