নিজস্ব প্রতিনিধি,শান্তিপুর: ডিম চুরির অপরাধে নাবালিকা কন্যাকে মারধোর এবং দীর্ঘক্ষণ পুকুরের জলে চুবিয়ে রাখার অভিযোগ প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। গ্রেফতার অভিযুক্ত।ডিম চুরি করার অপরাধে এক দশ বছরের নাবালিকা কিশোরীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন এবং দীর্ঘক্ষণ পুকুরের জলে চুবিয়ে রাখার অভিযোগ উঠল এক ফাস্ট ফুড বিক্রেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি নদিয়া জেলার শান্তিপুর থানার(Shantipur P.S.) অন্তর্গত ঢাকা পাড়া ১ নম্বর রামগোপাল এলাকার। ইতিমধ্যেই ওই নাবালিকার বাড়ির পক্ষ থেকে শান্তিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, অভিযোগ গত কাল আনুমানিক দুপুর দেড়টা নাগাদ ওই নাবালিকাকে পুকুর পাড়ে চুবিয়ে রাখে প্রতিবেশী এক ব্যক্তি।
নাবালিকার(Minor Girl) বাবা কর্মসূত্রে থাকেন বাড়ির বাইরে। ঠাকুমার কাছেই ওই নাবালিকা এবং তার বোন থাকে। নাবালিকার ঠাকুরমার অভিযোগ, নিজের নাতনিকে জলে চুবিয়ে রেখেছে দেখে খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন তাদের স্থানীয় এক বাসিন্দা সুভাষ বিশ্বাস পুকুরের মধ্যে চুবিয়ে রাখে। তিনি আরো জানান ওই পুকুরে তার নাতনি স্নান করতে যায়। এবং পুকুর থেকে দু একটা ডিম স্নান করার সময় নিয়ে আসে। নাতনি জানায় পুকুরের মধ্যে যেহেতু হাঁস চলাচল করে ওই ডিমগুলি ওই হাঁস গুলির।নাবালিকার কথা অনুযায়ী ওই পুকুরে এই তিনটি হাঁস ঘুরে বেড়ায় জলে ডুব দিতে গিয়ে মাঝেমধ্যেই স্নান করে ডিম নিয়ে বাড়ি আসে গতকালকেও তাই হয়েছিল কিন্তু প্রতিবেশী মিথ্যা অভিযোগ করে তাকে দু ঘন্টা ধরে জলের মধ্যে ডিম(Egg) খুঁজতে বাধ্য করেছে, ডিম খুঁজে বের করলে তা ফাটিয়ে পোল্ট্রির ডিম বলে, পরে তাকে মারধর করা হয়।
ঠাকুমার অভিযোগ কিছু না বুঝেই ডিমের দাম ফেরত দিতে চেয়েছিলাম কিন্তু মারধরের পরে ন্যূনতম কেমন আছে সে খবর নিতেও আসেনি প্রতিবেশী। তাই বাধ্য হয়ে আইনের দ্বারস্থ হয়েছি।তবে অভিযুক্ত সুভাষ বিশ্বাসের স্ত্রীর অভিযোগ যেই ডিমগুলি ওই নাবালিকা নিয়ে আসতো সেগুলি কখনোই হাঁসের ডিম নয়। সেগুলি তার দোকানের উদ্দেশ্যে কেনা বাড়িতে থাকা যা ওই নাবালিকা চুরি করেছে। তিনি এও আমাদের জানান এর আগেও নাকি বাচ্চাটি তার বাড়িতে এসে বেশ কিছু জিনিস চুরি করে।এরপর নাবালিকা ঠাকুমা খবর পেয়ে পুকুর থেকে তার নাতনিকে উদ্ধার করে এলাকাবাসীর সহযোগিতায়। এরপর ঘরে এসে যখন শুয়ে থাকে ওই নাবালিকা তখন তাকে হঠাৎ করে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির স্ত্রী এসে নাবালিকাকে মারধর করতে থাকে এবং টেনে হিচড়ে ওই নাবালিকাকে নিয়ে যায় রাস্তা দিয়ে।
বাড়িতে গিয়েও বেধড়ক মারধর করে। যার ফলে ওই নাবালিকার মুখের কিছু জায়গায় এবং ঘাড়ে চোট লাগে। এরপর তড়িঘড়ি নাবালিকাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে শান্তিপুর হাসপাতালে চিকিৎসক প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা করেন। এরপর অভিযুক্ত প্রতিবেশী ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে শান্তিপুর থানায়(Shantipur P.S.) লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নাবালিকার পরিবার। যদিও ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শান্তিপুর থানার পুলিশ অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিকে গতকাল আটক করে আদালতে পাঠিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।