নিজস্ব প্রতিনিধি, শান্তিপুর: যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানে সোনার কাজে গিয়ে আটকে পড়েছে নদিয়ার শান্তিপুর শহরের ৩ এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তিন ব্যক্তি। এরা প্রত্যেকেই নিপুন সোনার অলংকার তৈরীর কারিগর। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে সোনার অলংকার তৈরি করে তারা তাদের সংসার যাপন করেন। শান্তিপুর গোপালপুর (Gopalpur)এলাকার এই তিন ব্যক্তি যাদের নাম আফিরুল শেখ,আশরাফুল শেখ, সাবের আলী। সকলেই বেশ কিছু বছর আগে ইরানে গিয়েছিলেন সোনার কাজ করতে। কিন্তু বর্তমানে তারা যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানে আটকে রয়েছেন। পরিবার সহ গোটা এলাকা বর্তমানে চিন্তিত। কবে তারা সুস্থভাবে বাড়ি ফিরবেন। সকলেই চাইছেন রাজ্য সরকার উদ্যোগ নিয়ে তাদের বাড়ির মানুষকে ঘরে ফেরান সুস্থভাবে।
অধীর আগ্রহে তারা বসে রয়েছেন বাড়ির লোকের ফেরার অপেক্ষায়। প্রতিনিয়ত ইরানে যুদ্ধের পরিস্থিতির খারাপের দিকে এগোচ্ছে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে ইরান। চলছে প্রতিনিয়ত মিসাইল ক্ষেপণাস্ত্র আর রকেট হামলা। সাইরেনের শব্দ, পরমাণুর যেখানে রাখা রয়েছে তার সন্ধানে আক্রমণ এসবে তটস্ত ইরানবাসী। অনেকেরই প্রাণ গেছে ইতিমধ্যে। প্রতিমুহূর্তে টেলিভিশনের পর্দায় সেই সংবাদ দেখে শান্তিপুরের এই ৩ সোনার কারিগরের পরিবারের সদস্যরা শিউরে উঠছেন। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ঠিক মতো হচ্ছে না। কারণ রয়েছে নেট সমস্যা। তাই তিনটি পরিবারই রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের কাছে তাদের ঘরের লোককে সুস্থ শরীরে ফেরানোর আবেদন জানাচ্ছেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের(CM Mamata Banerjee) কাছে এই তিনটি পরিবার একান্তভাবে ৩ সোনার কারিগরকে ফিরিয়ে আনার আবেদন জানাচ্ছে।
এদিকে ইরানে পরমাণু কেন্দ্রগুলিতে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হয়েছে বলে প্রতিবাদে সোচ্চার হচ্ছে না অনেকেই। যুদ্ধে বাংলার একাধিক জন আটকে রয়েছেন ইজরাইলের আটকে রয়েছেন দুই ভাই বেতারের এক বাসিন্দা। তন্নি ইরানে সোনার কাজ করতে গিয়ে আটকে রয়েছেন শান্তিপুরের ৩ কারিগর। আটকে পড়াদের ফেরাতে ইতিমধ্যেই দফায় দফায় অপারেশন সিন্ধু শুরু হয়েছে ।ইরান থেকে ৩১১ জনকে নিয়ে ফিরে এসেছে বিশেষ বিমান দিল্লির রাজধানীতে। ইসরাইল থেকেও ভারতীয়দের ফেরানোর জন্য তৎপরতা শুরু হয়েছে। দূতাবাসের ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চালু হয়েছে হেল্প লাইন নম্বর এবং বিশেষ ই-মেইল ইত্যাদি।