নিজস্ব প্রতিনিধি: মাটির বাড়ির অর্ধেকাংশ প্রায় ভেঙে পড়েছে। কোন রকমে চলে সংসার। দারিদ্রতার সাথে লড়াই করা পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুরের ছেলে শুভজিৎ চক্রবর্তীই এখন জেলার স্টার। খড়গপুর-২ ব্লকের চাঙ্গুয়াল গ্রামের বাসিন্দা এই যুবক পান বিক্রি করেই চালাত গানের রেওয়াজ। সম্প্রতি সর্বভারতীয় রিয়েলিটি শো-তে গান গেয়ে তিনি জয় করে নিয়েছেন মানুষের হৃদয়। তিনি আজ বিখ্যাত ‘আইডল পানওয়ালা’ হিসেবে।
নিম্নবিত্ত পরিবারের ছেলে শুভজিৎ। তাঁর বাবা কৃষ্ণদাস চক্রবর্তী গানের শিক্ষক। তাঁর সামান্য কয়েকটা টিউশনির উপরে নির্ভর করেই চলে সংসার। শুভজিতের মা বন্দিতা চক্রবর্তী গৃহবধূ। যদিও একসময়ে তিনিও কৃষ্ণদাসবাবুর সঙ্গে যাত্রাদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্বভাবতই ছোট থেকে গান শুভজিতের শিরায় শিরায় প্রবাহিত হয় রক্তের মতোই। ছোট অবস্থাতেই স্টেজে উঠে গান গেয়েছেন শুভজিৎ। তবে গানের হাতেখড়ি হয় বাবার হাত ধরেই। অল্প বয়স থেকেই বাবার কাছে আধুনিক গানের পাশাপাশি লোকসঙ্গীতের তালিম নিতেন। সংসারে শত অভাব অনটন সত্ত্বেও গানের প্রতি তাঁর ভালোবাসা মরে যায়নি। পরে কৃষ্ণদাসবাবু একটি বাউলের দল প্রতিষ্ঠা করেন। সেই দলেও গান গাইতেন শুভজিৎ। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে সমস্যা বেড়ে গিয়েছিল তাঁদের। কৃষ্ণদাসবাবুর গানের টিউশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুরু হয় তীব্র আর্থিক সংকট। এরপরে পানের দোকান খুলে ব্যবসা শুরু করে চক্রবর্তী পরিবার। সেই সময়ে দোকানে বসতেন শুভজিৎ ও তাঁর মা। পানের দোকানে বসেই গলা ছেড়ে গান গাইতেন শুভজিৎ। প্রতিবেশীরা দোকানে ভিড় জমাতেন গান শোনার জন্য। এতে বিক্রি বাড়ত বলেই দাবি পরিবারের সকলের।
শুভজিতের বাবা জানান, ও খুব অভাবের মধ্যে বড় হয়েছে। দামি পোশাক, দামি খাবার কোনও সময়ে কিনে দিতে পারিনি। কিন্তু নিয়মিত রেওয়াজ করত। আমি চাই ও দেশের নাম উজ্জ্বল করুক। শুভজিৎ পানের দোকানে বসেও গান গাইত। শুভজিতের মা বলেন, আমরা গাড়ি, বাড়ি কিছুই চাই না। ওর গান মানুষ ভালোবাসছে, এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। বাজার থেকে ধারদেনা করে ছেলেকে গান গাইতে পাঠিয়েছি। প্রার্থনা করি, ও অনেক বড় হোক। মানুষের সাপোর্ট ছাড়া তা কোনও ভাবেই সম্ভব নয়।
শুভজিতদের মাটির বাড়ির দেওয়ালে বড় ফ্লেক্স লাগানো হয়েছে। গ্রামবাসীরা আশা করছেন, শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা জয় করেই বাড়ি ফিরবেন শুভজিৎ।