নিজস্ব প্রতিনিধি: গ্রামের কয়েক হাজার কিলোমিটারের রাস্তা সম্পূর্ণ রাজ্যের খরচে তৈরি হয়েছে। এই প্রকল্পকে ‘পথশ্রী’ আওতায় রাখা হয়। এর পরই পিএম সড়ক যোজনা (পিএমজিএসওয়াই) ৩ এবং রুরাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের (আরআইডিএফ) পাওয়া ৩০০০ কোটি টাকার কাজ করেছে রাজ্য। এবার সেই কাজই সঠিক সময় শেষ করতে উদ্যোগী সরকার। সেই কারণেই ২২ জেলায় প্রতিনিধি দল পাঠাতে চলেছে পঞ্চায়েত দফতর। সূত্রের খবর, পরিকল্পনা অনুযায়ী, সমস্ত কাজ বর্ষার আগেই শেষ করে দিতে হবে।
জানা গিয়েছে, মে মাসে সড়ক তৈরির দায়িত্বে থাকা সদস্যরা জেলাগুলিতে গিয়ে কাজ কতটা হয়েছে তা দেখে আসবেন। সেই পরিদর্শনে যদি কোনও জায়গায়দেখা যায় কাজের অগ্রগতি ঠিক নেই, সেই জেলায় বিশেষ কর্মশালা তৈরি করা হবে বলেও জানা গিয়েছে। এরকম গ্রামে গ্ররামে অগ্রগতি দেখার জন্য তিনটি পরিদর্শন দলে তৈরি করেছে পঞ্চায়েত দফতর। সেখানে প্রতিটি দলে থাকবে ছ’জন করে পদস্থ আধিকারিকরা। জানা গিয়েছে, প্রথম দলটি যাবে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, মালদহ, মূর্শিদাবাদ, দক্ষিণ ও উত্তর দিনাজপুর জেলায়। এবং দ্বিতীয় দলের আধিকারিকরা যাবে পশ্চিম বর্ধমান, বীরভুম, পূর্ব মেদিনীপুর, দার্জিলিং, কালিম্পং, শিলিগুড়ি মহকুমা পরিপষদ, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, এবং জলপাইগুড়ি জেলা। তৃতীয় দল সমস্ত ভাল করে দেখে আসবে নদীয়া, হুগলি, হাওড়া, পূর্ব বর্ধমান, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাজের অগ্রগতি। রাজ্য তালিকা অনুসারে, পিএমজিএসওয়াই ৩-এর আওতায় এই মুহূর্তে ৩৩০০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ৪০০টি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। এই সড়ক তৈরির জন্য কেন্দ্র সরকারের ১৪৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সেখানে রাজ্য তরফ থেকে পাওয়া গিয়েছে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা মতো। এছাড়াও, ৭০০ কোটি টাকায় চলছে ১০৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের আরআইডিএফ-এর ১৪৮টি গ্রামের রাস্তা নির্মান ও সংস্কারের যাবতীয় সমস্ত কাজ।
প্রশাসন থেকে জানানো হয়েচজে, পিএমজিএসওয়াই ৩-এর অধীনে থাকা প্রায় ২০০০ কোটি টাকা অর্থমূল্যের ১২০০ কিলোমিটার কাজের জন্য মোদি সরকারের থেকে টাকা পাওয়ার কথা তা এখনও এসে পৌঁছায়নি। তবে বর্তমানে যে সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে তা বহাল রাখতে কেন্দ্রের ওই টাকা পাওয়া খুবই দরকার। এবং সেই দাবিতেই কড়া হতে হবে। তবে জানা গিয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার গ্রামীণ রাস্তা সংস্কারের আবেদন এসেছে ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’ হেল্পলাইনের মাধ্যমে। তাই সেগুলি খতিয়ে দেখার কাজ চলছে। সেখানে ‘পথশ্রী’ আওতায় বা অন্য কোন নামের প্রকল্পে রাজ্য নিজের টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা করতে পারে। নবান্ন থেকে এরকম কোনও নির্দেশ আসার আগেই গ্রামীণ রাস্তা তৈরির কাজ এগিয়ে রাখতে চায় প্রশাসন।