নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বর্তমানে উত্তরবঙ্গ সফরে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)। একগুচ্ছ কাজ নিয়ে গত ১১ নভেম্বর উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার পাহাড় সফরের দ্বিতীয় দিনে রিচমন্ড হিলে জিটিএ, দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলা প্রশাসন এবং বিভিন্ন উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের সঙ্গে প্রশাসনিক বৈঠক করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার (১৩ নভেম্বর) সকাল সকাল দার্জিলিং শহরের রাস্তায় হাঁটতে বেরিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দার্জিলিং ম্যালের রাস্তার সামনে এসেই থমকে যান মুখ্যমন্ত্রী। কেন? আসলে দার্জিলিং ম্যালের পথেই রয়েছে পদ্মজা নায়ডু জ়ুলজিক্যাল পার্ক। আর চিড়িয়াখানার নতুন দুই অতিথিকে দেখেই পা আটকে যায় মুখ্যমন্ত্রীর। আসলে দুই তুষারচিতার শাবককে দেখেই ভীষণ খুশি হয়ে ওঠেন মমতা।
এমনকী, দেখামাত্রই তাদের নামকরণও করে ফেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একটির নাম দিলেন ‘ডার্লিং’, অন্যটির নাম রাখলেন ‘চার্মিং’। তারা রাহালা এবং নাকা নামের দুটি তুষারচিতার সন্তান। ভীষণ মজা করেই নামগুলি রাখলেন তিনি। এদিন চিড়িয়াখানার সামনে দাঁড়িয়ে চারটি রেড পান্ডারও নামকরণ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাদের নাম রাখেন, পাহাড়িয়া, ভিক্টরি, ড্রিম এবং হিলি। এদিন মুখ্যমন্ত্রী তুষারচিতার পাশাপাশি রেড পাণ্ডা শাবকদেরও নাম দেওয়ায় উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন পার্ক কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে দার্জিলিংয়ের পদ্মজা নায়ডু জুলজিক্যাল পার্কে ক্যাপটিভ ব্রিডিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে জন্ম নেয় চারটি রেড পান্ডা এবং দু’টি স্নো লেপার্ড। দুই তুষারচিতার জন্মের পর বর্তমানে দার্জিলিং চিড়িয়াখানার তুষারচিতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১টি। আর চারটি নতুন শাবক জন্মের পর বর্তমানে লাল পান্ডার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯টি। শুধু লাল পান্ডা এবং তুষারচিতা নয়, পাশাপাশি হিমালয়ান নেকড়ে, টাকিন, হিমালয়ান নীল ভেড়া, হিমালয়ান থরের মতো একাধিক বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীদের কৃত্রিম প্রজনন ঘটানো হচ্ছে, এবং তাতে সফলও হচ্ছে দার্জিলিং চিড়িয়াখানা।
এদিন তাদের নামকরণ শেষে আবারও ম্যালের দিকে হাঁটা দেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার থেকে পাহাড় সফরে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে সমস্ত উন্নয়ন বোর্ড পুনর্গঠনের পাশাপাশি সমস্ত বোর্ডের অডিট, প্রকল্পের অগ্রগতির উপর নজরদারির জন্য ‘মনিটরিং সেল’ তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও সেখানকার তরুণ প্রজন্মকে বিভিন্ন কাজে উৎসাহী করে তুলতে ‘স্কিল সেন্টার’ চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এদটি ম্যালের গোটা মার্কেট কমপ্লেক্সে ঘোরেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। সেখান থেকে বেশ কিছু জিনিস কেনেন মুখ্যমন্ত্রী। ছোটদের হাতে চকোলেট গুঁজে দেন। তাঁকে দেখার জন্যে ম্যালের দু পাশে ভিড় উপচে পড়ে।