নিজস্ব প্রতিনিধি, শন্তিপুর: নদিয়ার শান্তিপুরের এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃতদেহ পুণে থেকে আনতে গিয়ে পথ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে অ্যাম্বুলেন্স। মৃত্যু হয় আরও দুজনের। ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় এক পরিযায়ী শ্রমিকের। মৃতদেহ আনতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা অ্যাম্বুলেন্স চালক এবং মৃত ব্যক্তির এক আত্মীয়ের মৃত্যু হয়। প্রাণে বেঁচে যায় নাবালক এক ছেলে।ঘটনায় চাঞ্চল্য এবং শোকের ছায়া এলাকায়। নদিয়ার শান্তিপুর ব্লকের(Shantipur Block) বেলঘড়িয়া দু’নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে এলাকার খাপড়াডাঙ্গা অঞ্চলের বাসিন্দা কানাই বিশ্বাস(Kanai Biswas) বেশ কিছুদিন আগে পুণেতে হোটেলে রান্নার কাজে গিয়েছিলেন। সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন পনেরো বছর বয়সী নিজের বড় সন্তানকে ।
জানা যায়, কিছুদিন আগে শরীর খারাপ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় কানাই বাবুকে ।এরপর পরিবারের লোক মঙ্গলবার জানতে পারেন কানাই বাবু হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। এরপর পরিবারের লোকজনকে খবর দেওয়া হলে সমস্তটাই জানতে পারেন তারা। তাদেরই এক আত্মীয় যার বাড়ি শান্তিপুর বাথনা গোসাই পাড়া এলাকায়,নাম পঙ্কজ বিশ্বাস(Pankaj Biswas), তিনিও পুণেতে হোটেলে কাজ করতেন। পারিবারিক যোগাযোগ না থাকলেও মৃত্যুর খবর পেয়ে মৃতদেহ আনতে চলে গিয়েছিলেন পঙ্কজ বাবু। এরপর মৃতদেহের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সে(Ambulance) করে ফিরছিলেন তবে হঠাৎই নাগপুরে একটি পথদুর্ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্সের চালক এবং কানাই বাবুর আত্মীয় পঙ্কজ বাবুর মৃত্যু ঘটে।
ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহ এবং আহতদেরকে উদ্ধার করে স্থানীয় প্রশাসন। এরপর খবর দেওয়া হয় পরিবারে। ঘটনার রীতিমতো শোকের ছায়া এলাকায়। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং শান্তিপুর থানায় খবর দেওয়া হয় মৃতদেহগুলিকে নিয়ে আসার জন্য। এ ঘটনায় দু’নম্বর অঞ্চলের বিজেপির সদস্য অজয় দাস জানান, স্থানীয় বিধায়ক এবং সাংসদের সঙ্গে কথা বলে তবে সেখানকার রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের তৎপরতায় দেহ দুটিকে অতি দ্রুত শোকার্ত পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন।