নিজস্ব প্রতিনিধি,পাঁশকুড়া:রাজ্যকে না জানিয়ে ডিভিসি আবার জল ছেড়েছে।মুখ্যমন্ত্রী কন্ট্রোল রুমে জেগে রয়েছেন ২১ ঘণ্টা ধরে।পাঁশকুড়ার(Paskura) নদী বাঁধ পরিদর্শনে এসে মন্তব্য মানস ভুঁইয়ার।পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ায় রবিবার নদী বাঁধ পরিদর্শনে যান রাজ্যের সেচ মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া।তিনি স্থানীয় প্রশাসনের সাথে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন, কথা বলেন এবং এলাকা পরিদর্শন করেন।সেচ মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া বলেন, রাজ্যকে না জানিয়েই ডিভিসি জল ছেড়ে দিয়েছে। আবারো নতুন করে রবিবার ৪৯ হাজার কিউসেক জল ছেড়েছে ডিভিসি। একদিকে কালুডি ভরিয়ে দিচ্ছে সুবর্ণরেখা এবং কংসাবতী। অন্যদিকে দুর্গাপুর ব্যারেজ বাংলাকে জলে ভরিয়ে দিচ্ছে। তার ওপর প্রকৃতির মেঘ ভাঙা বৃষ্টি, মুখ্যমন্ত্রী(CM) ২৪ ঘন্টার মধ্যে ২১ ঘন্টা মিনিটে মিনিটে জেগে রয়েছেন। তিনি নিজে কন্ট্রোল রুমে বসে আছেন। আমি গত দেড় মাস মাঠে মাঠে ঘুরছি। অন্যান্য মন্ত্রীরাও ঘুরছেন।
গ্রামবাসীদের হাত জোড়া করে অনুরোধ আপনারা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন । সবাইকেই বাঁচতে হবে। তিনি আরো বলেন, মুখ্যমন্ত্রী তিনি নিজে নির্দেশ দিয়েছেন আমাকে পরিদর্শন করতে। গ্রামের মানুষ সরকার এবং দফতর আমরা এক হয়ে কাজ করব। মানুষকে আগে বাঁচাতে হবে। পাঁশকুড়ার ডোমঘাটের কথা তিনি ভাববেন। জল কমলে আগামী দিনে কিছু করা যায় কিনা সেটা নিয়ে চিন্তাভাবনা করবেন বলে জানান।এছাড়াও তিনি দাবি করেন দেড় মাস ঘুরে বেড়াচ্ছি, তীক্ষ্ণ নজর রেখেছি পাঁশকুড়া এবং মহিষাদল(Mahishadal) এর উপর। । মুখ্যমন্ত্রী দশবার চিঠি দিয়েছেন এবং চারবার প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন।
মানুষ তো পশ্চিমবঙ্গের তারা লড়াই করে বেঁচে আছে। একদিকে প্রকৃতি একদিকে ডিভিসি এবং কালুড়ি বিপদজনক অবস্থা। ১ লক্ষ ৭৭ হাজার কোটি টাকা আজ অব ধি কেন্দ্র সরকার দেয়নি। ২০১৫ সাল থেকে অন রেকর্ড নদীর সংস্কারের একটাও টাকা দেয়নি।ওদের মন্ত্রী দল বলে দিয়েছে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান এর টাকা দিল্লি দেবে না। বেলুনটা ফুটো করে দিয়েছে। কিন্তু আমাদের নেত্রী ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার প্রোজেক্ট এর কাজের মধ্যে ২৬ সালের বাজেটে পাস করেছেন এবং ৫০০ কোটি টাকা দিয়ে দিয়েছেন আমার দফতরকে। কাজ চলছে। উদ্ধার রিলিফ(Relief) এবং নজর ইমারজেন্সি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে বাঁচানো।তাদের খাদ্য ও ওষুধ জল সবকিছু প্রস্তুত রেখেছি। ঝাড়খন্ড, বাঁকুড়া, পুরুলিয়ায় ব্যাপক পরিমাণে বৃষ্টি হচ্ছে। কংসাবতীর ব্যারেজের জল আসছে ।আমরা মোকাবেলা করছি। আমাদের বিডিও, এসডিও, ডি এম, ইরিগেশন সহ জল সম্পদ দফতরের সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুম রয়েছে। এদিকে,পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল, চন্দ্রকোনা, দাসপুর এবং কেশপুরে এক মাসে তিনবার প্লাবিত হয়েছে।
নিম্নচাপের কারণে, কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টিপাত এবং জলাধার থেকে অবিরাম জল ছাড়ার কারণে ঘাটাল আবারও প্লাবিত হতে হয়েছে। শীলাবতী, দ্বারকেশ্বর এবং রূপনারায়ণ সহ বিভিন্ন নদীর জলস্তর ধীরে ধীরে বাড়ছে। ঘাটালের(Ghatal) দুর্ভোগের চিত্র কোনওভাবেই বদলাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। ঘাটাল পৌরসভার নটি ওয়ার্ড ইতিমধ্যেই ডুবে গেছে। চন্দ্রকোনা(Chandrakona) ব্লক নম্বর এক এবং দুই-এর একটি বিশাল এলাকা জলের তলায় এবং কেশপুরেও একই অবস্থা। সময়ের সাথে সাথে বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। ঘাটাল জল সংকট শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। ঘাটাল পৌরসভার আরগোড়া এলাকার চাতাল নম্বর ১-এ নৌকা চলাচল শুরু হয়েছে।