নিজস্ব প্রতিনিধি,বীরভূম:পয়লা মাঘ বীরভূমের ময়ূরেশ্বর থানার ঢেকা পঞ্চায়েতের ঢেকা গ্রামের অদূরে মাঠের মধ্যে প্রাচীনকাল থেকেই হয়ে আসছে ‘ব্রহ্মদৈত্ব্যের মেলা’ ৷ তবে এই মেলা শেষ হয় সন্ধ্যে হবার আগেই। তারপর কেউ ওই মেলা প্রাঙ্গণের কাছে থাকে না। মেলা মানে মিলন ক্ষেত্র ৷ আর এই মিলন ক্ষেত্রে আগমন ঘটে বহু দূর-দূরান্ত মানুষের । এবছরও তার ব্যাতিক্রম হয় নি ।সাড়ম্বরে পালিতো হল ঢেকার এই ‘ব্রহ্মদৈত্ব্যের মেলা'(Bramhodaityer Mela) ৷ মেলাটি সাধারণত ‘ঢেকার পাড়ের মেলা’ নামেই পরিচিত ৷ বাবা সন্ন্যাসীর পূজা উপলক্ষ্যে একদিন ব্যাপী এই মেলা হয় ঢেকা গ্রাম সংলগ্ন একটি মাঠের মধ্যে ৷
সকাল থেকে শুরু হয় আর সন্ধ্যা ঘনানোর পূর্বেই শেষ হয়ে যায় মেলা ৷ লোকমুখে শোনা যায় ব্রহ্মদৈত্ব্যের কথা ও কাহিনী ৷ যার ভয়ে এখনো শঙ্কিত মানুষ ৷ এখনো রাত্রি হলে মেলার ত্রিসীমানায় যান না কোনো মানুষজন ৷ ঠিক যেনো স্বামী বিবেকানন্দের ‘ছেলেবেলা’ গল্পের কাহিনী ৷ এখানে শোনা গেছে বহু কাল আগে নাকী কোনো এক জনৈক নিজের সাহস বড়াই করে রাত্রি কাটিয়ে ছিলো , কিন্তু সকাল হলেই স্থানীয়দের চোখে পরে ব্যক্তি মুখে রক্ত উঠে মারা গেছেন ৷ আর তখন থেকেই রাত্রি ঘনালে কেউ তার ধার পাশেও ঘেঁসেন না ৷ শোনা যায় ব্রহ্মদৈত্ব্যের নানা কথা ও কাহিনী ৷ তাই সকালে মেলার শুভারম্ভ করে সারাদিন চলে রমরমিয়ে বেচা কেনা । আর সন্ধ্যার আগেই শেষ হয়ে যায় এই মেলা ৷
ভিন গ্রাম থেকে কয়েক হাজার মানুষের ঢল নেমেছে মেলাতে এবছর ৷ বুধবার দুপুর একটা নাগাদ সেই চিত্র ধরা পড়লো ক্যামেরায় । মেলায় পোড়া মাটির তৈরী নানান জিনিসপত্র কেড়েছে নজর ৷ এছাড়াও বাঁশ , বেত , কাঠের তৈরী নানান আসবাবপত্র , মাছ ধরার জাল , পলুই , খাঁচি , পেঁছে , চাষযোগ্য ফাওড়া , লাঙল , কোদাল , কাস্তে , রান্না সরঞ্জাম শিল , নোড়া , ছাড়াও নানা রকমারি মিষ্টি পাওয়া যায় এই মেলাতে ৷ মেলার বিশেষ আকর্ষন লাল আলুর তৈরী মিষ্টি ৷ স্থানীয়রা দাবি করেন এই মেলায় এতটাই বেচাকেনা যে সন্ধ্যা ঘনানর আগেই মিষ্টির রস পর্যন্ত বিক্রি হয়ে যায় এই মেলায়। এবছর প্রশাসনিক ব্যবস্থাও ছিলো বেশ চোখে পড়ার মত ৷