নিজস্ব প্রতিনিধি, ইংরেজবাজার: কালিয়াচকের তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী খুনের ঘটনায় যুক্ত দুষ্কৃতীদের ধরতে ড্রোনের সাহায্য নিল পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জনুয়ারি) ঘটনাস্থল থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরের এক মাঠে ড্রোন ওড়ায় পুলিশ। যদিও ড্রোনের সাহায্যে খুনিদের ডেরা শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে কিনা, তা নিয়ে মুখ খোলেননি মালদার পুলিশ সুপার।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) মালদহের কালিয়াচকের নওদা যদুপুর অঞ্চলের সালেপুর মোমিনপাড়ায় তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কংগ্রেস নেতা জাকির সেখ এবং বকুল সেখের গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের জেরে শুটআউটের ঘটনাও ঘটে। সেই শুট আউটে বকুল সেখের ঘনিষ্ঠ এক তৃণমূল কর্মী প্রাণ হারান বলে খবর পাওয়া যায়। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, নিহতের দেহে গুলির চিহ্ন মেলেনি। তবে পুলিশ এই দাবি করলেও ঘটনাস্থলে গুলির খোল পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি বকুল সেখ ও তার ভাই তথা প্রাক্তন অঞ্চল প্রধান এসারুদ্দিন সেখ গুরুতর আহত হন। দুষ্কৃতীরা তাদের মাথায় ইট দিয়ে নির্মমভাবে আঘাত করে।
ঘটনার তদন্তে নেমে বুধবার (১৫ জানুয়ারি) পুলিশ এক দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করে। তবে মূল অভিযুক্ত জাকির সেখ এখনও পলাতক। দুষ্কৃতীদের ধরতে পুলিশের পক্ষ থেকে স্নিফার ডগ নামানো হয়। স্নিফার ডগ দিয়ে ঘটনাস্থল সহ আশপাশের এলাকায় তন্নতন্ন করে তল্লাশি অভিযান চালায়। প্রশিক্ষিত পুলিশ কুকুর ঘটনাস্থল থেকে গন্ধ শুঁকতে শুঁকতে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে জালালপুরের বালুয়াচড়া এলাকায় গিয়ে থেমে যায়। তারপর পুলিশ কুকুর আর দুষ্কৃতীদের আর কোন ঘ্রাণ পায়নি। তাই পলাতক দুষ্কৃতীরা জালালপুরের বালুয়াচরা এলাকার বিস্তৃত মাঠেই আত্মগোপন করে কোন ডেরায় রয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। আত্মগোপন করে থাকা দুষ্কৃতীদের ধরতে বৃহস্পতিবার এলাকায় পুলিশের পক্ষ থেকে ড্রোন ওড়ানো হয়। গোটা এলাকায় ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে তন্নতন্ন করে তল্লাশি অভিযান চালায় পুলিশ। তবুও মূল অভিযুক্ত জাকির সেখ এখনও অধরা।