নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রকাশ্যে দিনের আলোয় কর্তব্যরত পুলিশের গায়ে হাত আম জনতার।যে ছবি ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। কেন এমন ঘটনা? আরজি কর কাণ্ডের পর থেকেই পুলিশ প্রশাসনের উপর ক্ষোভ বাড়তে শুরু করেছে রাজ্যের মানুষের। আর এবার তারই প্রতিফলন দেখা গেল মধ্যমগ্রামে। মধ্যমগ্রাম(Madhyamgram) চৌমাথা অর্থাৎ সোদপুর রোড ও যশোর রোডের মিলনস্থলে টানা কয়েকদিন ধরে চলছে আরজিকর কাণ্ড নিয়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভ অবস্থান। জানা যায়, অবস্থানস্থল থেকেই মাত্র কয়েক ফুট দূরে ট্রাফিক আইন ভাঙ্গায় এক বাইক আরোহীকে আটকানোর পরই হয় ঘটনার সূত্রপাত। কর্তব্যরত ট্রাফিক আধিকারিকদের সঙ্গে রীতিমতো বচসায় জড়িয়ে পড়েন ওই ববাইক আরোহী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই বাইক আরোহী গালিগালাজও করে,কারণ অজথা কেন রাস্তা আটকানো হয়েছে।তারপরেই কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ সেই বাইক আরোহীকে আটক করে ট্রাফিক কিঅক্স এর কাছে নিয়ে যায়।
এরপরই পথ চলতি মানুষ জড়ো হতে থাকে।পুলিশের উপর আচমকাই উত্তেজিত হয়ে পরে মানুষজন। তখনই ট্রাফিক গার্ডের দুই এএসআইকে(ASI) রীতিমতো মারধর করতে দেখা যায় কয়েকজন স্থানীয় কয়েকজনকে। তবে ওই বাইক আরোহী এই মারধরের ঘটনায় জড়িত ছিলো না।সে যা অন্যায় করেছে তার জন্য পুলিশের কাছে ক্ষমাও চায়।উত্তেজনার মুহূর্তে বেশ কয়েকজন সেই ভিডিও তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেন, তাদের চিহ্নিত করেও ধরা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে পুলিশ সূত্রে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মধ্যমগ্রাম থানাকে খবর দেওয়া হলে থানার পুলিশ আধিকারিকেরা এসে ইতিমধ্যেই চারজনকে গ্রেফতার করেছে বলে জানা গিয়েছে। ধৃতরা হল বছর বিজয় দত্ত, শংকর দাস, দেবাশীষ প্রধান ও মোহাম্মদ আজিজ।
তবে আটক বাইক আরোহীর থেকেও পুলিশের উপর এই হামলার ঘটনায় বেশি উত্তেজিত হয়ে উঠতে দেখা গিয়েছিল আশপাশে থাকা সাধারণ মানুষকে। আর এই ঘটনা সামনে আসতেই রীতিমতো প্রশ্ন উঠছে তবে কি পুলিশের উপর ক্ষোভের কারণেই আইন হাতে তুলে নিচ্ছে আম নাগরিকরা। যদিও বিষয়টি নিয়ে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে বেশ কয়েকজনকে আরও বেশ কয়েকজনকে চিহ্নিত করে খোঁজ চালানো হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে। ওই বাইক আরোহীকে আটক করার পর তাকে ট্রাফিক গার্ডের কিয়স্ক এর কাছে নিয়ে আসতে দেখেই উত্তেজিত জনতা এভাবে চড়াও হয় পুলিশের উপর। রীতিমত কিয়স্ক থেকে বের করে মারধর করা হয় ওই আধিকারিকদের বলে জানা যায়। যার ভিডিও ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় হয়েছে ভাইরাল। এখন দেখার এই পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের তরফ থেকে কি ভূমিকা নেওয়া হয়।আজ ধৃত চারজন কে মধ্যমগ্রাম থানা থেকে বারাসত আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়।