নিজস্ব প্রতিনিধি, মধ্যমগ্রাম: উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মধ্যমগ্রামের বীরেশপল্লী থেকে যে ভ্যানে করে টলি ব্যাগে মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সেই ভ্যানচালকের স্পষ্ট দাবী এক ভদ্রলোক তাকে বলেন, বীরেশ পল্লী থেকে দুজন যাবেন দোলতলায়। তিনি ১৩০ টাকা ভাড়া দাবি করেন। সেই মতো ভ্যানচালক বীরেশপল্লীর ফাল্গুনীর বাড়ির সামনে আসেন। ফাল্গুনীর বাড়ির ঠিক আগে পুকুর পাড়ে ভ্যান রাখেন ।বাড়ি থেকে টলি ব্যাগ ফাল্গুনী এবং আরতি নিয়ে এসে ভ্যানে তোলেন। ভ্যানে তুলতে মা মেয়েকে ভ্যানচালক সাহায্য করেন। তারপরে নিয়ে যান ।ভ্যান থেকে নামিয়ে ১৩০ টাকা দেওয়া হয় ভ্যান চালককে। পুলিশকে ও সংবাদমাধ্যমকে এমনই জানান ভ্যানচালক রাধানাথ হালদার(Radhanath Haldar)ব্যাঙশালাকুমোরটুলি কাণ্ডে মা ও মেয়েকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হয়।২৭ তারিখ পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ। সমস্ত কেস ডাইরি মধ্যমগ্রাম থানার হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ। বারাসাত কোর্টে আগামীকাল শুনানি হবে।এই কেসের IO কে নির্দেশ দেওয়া হল এই কেস মধ্যমগ্রাম পিএস এ পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য। বারাসাত আদালতে হবে এই কেসের বিচার।
কে ওই ব্যক্তি যে কিনা ভ্যান ঠিক করে দিয়েছিল তাকে খুঁজছে় পুলিশ।যে বাড়িতে ভাড়া থাকতো সেই বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত জমি থেকে উদ্ধার হল খুনে ব্যবহৃত ইট। ফাল্গুনির হাত দিয়েই সেই খুনে ব্যবহৃত ইট উদ্ধার করল কলকাতা পুলিশ।ফাল্গুনীকে নিয়ে নর্থ পোর্ট থানার(NPPS) পুলিশ সহ ফরেনসিক আধিকারিকেরা একদিকে তথ্য সংগ্রহ অন্যদিকে পুন:নির্মাণ করার জন্য নিয়ে আসেন মধ্যমগ্রামের বাসভবনে।৬০০ টাকায় মধ্যমগ্রাম দোলতলা(Doltala) থেকে কুমোরটুলি ঘাট পর্যন্ত গাড়ি ভাড়া করেছিল আরতী ও ফাল্গুনী ঘোষ। আর গাড়ি থেকে নামানোর সময় আরও ১০০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েছিল তারা ট্যাক্সি চালককে। এত ভারী ট্রলি কেন? জানতে চাইলে চালক শ্যামসুন্দর দাসকে মা ও মেয়েকে বলেন ব্যাগে রয়েছে বাসনপত্র, জামা কাপড়, খাবার। গাড়ি চালক আরও বলেন, গাড়ির ভেতরে মা ও মেয়ে খাওয়া দাওয়া কি হবে তা নিয়ে আলোচনা করছিল, অন্য কিছু বলেনি।
ট্যাক্সি চালকের বয়ান খতিয়ে দেখছে কলকাতা পুলিশ। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে, ফুলের ঘটনার তদন্তে এবং পুন:নির্মাণের জন্য মঙ্গলবার রাতেই ফাল্গুনীকে(Falguni) নিয়ে কলকাতা পুলিশ ও ফরেনসিক টিম যায় মধ্যমগ্রামে। পিসি শাশুড়িকে কিভাবে খুন করা হয়েছিল মধ্যমগ্রামে ভাড়া বাড়িতে চলে সেই ঘটনার পুন:নির্মাণ। মঙ্গলবার সকালে উত্তর কলকাতার কুমারটুলি এলাকায় উদ্ধার হয় এক মহিলার দেহ নীল রঙের একটি টলি ব্যাগে। দুই মহিলা গঙ্গার ধারে ওই টলি ব্যাগ নিয়ে যখন ঘোরাঘুরি করছিল তখন স্থানীয় মানুষের সন্দেহ হয়। তারা দুই মহিলাকে চেপে ধরতেই টলি ব্যাগ থেকে বেরিয়ে আসে মহিলার দেহাংশ। এরপর খবর দেওয়া হয় পুলিশে। মা আরতী ঘোষ এবং তার মেয়ে ফাল্গুনীকে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। পরে তাদের গ্রেফতার করে। জেলায় পুলিশ জানতে পারে সম্পর্কে ফাল্গুনীর পিসি শাশুড়ি হন নিহত সুমিতা দেবী। তিনি থাকতেন অসমের যোরহাটে।
সম্প্রতি মধ্যমগ্রামে(Madhyamgram) ঘুরতে এসেছিলেন। গত আড়াই বছর ধরে মধ্যমগ্রাম পৌরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিদেশ পল্লীতে ভাড়া থাকেন ফাল্গুনী এবং আরতি। কয়েকদিন আগে এক বৃদ্ধাকে ভাড়াবাড়িতে ঢুকতে দেখেছিলেন স্থানীয়রা। সোমবার সকালে একটি টলি ব্যাগ নিয়ে দুজনকে ভাড়া বাড়িতে ঢুকতে দেখেছিলেন কয়েকজন বিকেলে মা আর মেয়ে বেরিয়ে যান পরের দিন মঙ্গলবার সকালে উদ্ধার হয় দেহভরা টলি ব্যাগটি কুমারটুলি গঙ্গার ঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে। পুলিশ জানতে পারে টলি ব্যাগে নিহত বৃদ্ধাকে ভোরে মধ্যমগ্রামের ভাড়াবাড়ি থেকে ভ্যানে চেপে প্রথমে মধ্যমগ্রামের দোলতলা মোড়ে আসেন মা ও মেয়ে সেখান থেকে একটি নীল সাদা ট্যাক্সিতে চেপে তারা কুমোরটুলি ঘাটের কাছে যান। তবে তার আগে তারা প্রিন্সেপ ঘাটে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ওই মৃতদেহের পায়ের একাংশ কাটা ছিল। জেলার মুখে মা ও মেয়ে স্বীকার করে টলি ব্যাগে ঢোকানোর জন্য মৃতদেহর পায়ের পাতা দুটো কেটে দিয়েছিল তারা। ওই বৃদ্ধার শ্বশুরবাড়ি বর্ধমানে নন্দঘাটে। দীর্ঘদিন তাঁর স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল না বলে জানতে পারে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফাল্গুনী কে নিয়ে এসে পুলিশ ওই ভাড়া বাড়িতে কি করে সে তার পিসি শাশুড়িকে খুন করেছিল সেই ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে ও ভিডিওগ্রাফি হয়। জানা গিয়েছে, ঝগড়ার পর ইট দিয়ে মাথা থেতলে খুন করা হয়েছিল বৃদ্ধাকে।