নিজস্ব প্রতিনিধি নদিয়া: কৃষ্ণনগরে রাম নবমীর শোভাযাত্রায় বিজেপির অস্ত্র মিছিল। মিছিল থেকেই অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করল পুলিশ। নির্দেশ ছিল রামনবমীর শোভাযাত্রা চলাকালীন শোভাযাত্রা কোনরকম অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মিছিল করা যাবে না। সেই নির্দেশ অমান্য করে এদিন কৃষ্ণনগর রাজবাড়ি থেকে সদর শহর প্রদক্ষিণ করে পুনরায় রাজবাড়ীতে শেষ হয় রামনবমীর শোভাযাত্রা। বিশাল সংখ্যক লোক নিয়ে এদিন রামনবমীর শোভাযাত্রায় অংশ নিতে দেখা গেল অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বেশ কিছু লোকজনকে। প্রকাশ্য রাস্তায় অস্ত্র ঘোরাচ্ছিল বেশ কিছু যুবক। নজর এড়ায়নি পুলিশের। রামনবমীর শোভাযাত্রার মধ্যে থেকে বেশ কয়েকটি অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করল কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার কোতোয়ালি থানা(Krishnagar Kotwali P.S.)। যদিও এদিন কৃষ্ণনগর রাজবাড়ী থেকে শুরু হওয়ার শোভাযাত্রায় বিশাল সংখ্যক মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এদিন কৃষ্ণনগরে পুলিশের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো।
অন্যদিকে,রবিবার রাম নবমীর মিছিলে হাওড়ার উলুবেড়িয়ার গঙ্গারামপুর থেকে কালিবাড়ি পর্যন্ত তিন কিলোমিটার রাস্তায় রামনবমীর মিছিলে(Ramnavami Rally) অস্ত্রের বদলে দেখা গেল হকি স্টিক। হাওড়ায় রামনবমীর মিছিলে অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়ে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে হাইকোর্ট। তাই ধাতব অস্ত্রের বদলে হকিস্টিক নিয়ে মিছিলে হাঁটতে দেখা গেল তরুণদের। চাক দে ইন্ডিয়া সিনেমার হকি টিম মনে হচ্ছিল তাদের। কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেয় এই মিছিলে। এই মিছিলে অস্ত্র প্রদর্শন করতে দেখা না গেলেও দেখা মিলেছে হকি স্টিকের। যেখানে কারোর মতে আইন যেমন আছে আইনের ফাঁকও রয়েছে। মহামান্য হাইকোর্ট ধাতব অস্ত্র প্রদর্শনে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও হকিস্টিক(Hockey Stick) এর বিষয় কোনো মন্তব্য করেনি। তাই পুলিশ ফোর্স এ ব্যাপারে কোন হস্তক্ষেপ করে নি। অন্যদিকে,বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মিছিলে যোগ দিলেন উত্তর হাওড়ার তৃণমূল বিধায়ক গৌতম চৌধুরী। এই মিছিলটি সঠিক সমাজের পক্ষ থেকে বের করা হয়েছিল। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল ধাতব অস্ত্র।তৃণমূল বিধায়ক গৌতম চৌধুরী বলেন, অস্ত্র মিছিল একটাই হয়। এখানে প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া থাকে। খটিক সমাজের মিছিল আমরা ছোট থেকে দেখে আসছি। বংশ পরম্পরায় এই মিছিল চলে আসছে। এদের প্রায় ৮০ বছর ধরে প্রাচীন রীতি মেনেই মিছিল হয়। একটাই অস্ত্র থাকে।
প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই এই মিছিল হয়।এদিকে,বাউড়িয়ায় রামনবমী পুজোয় মাতলেন মুসলিম,খ্রিস্টান সহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ । রামনবমীতে শ্রী রামের পুজো আসলে দুর্গা পুজো,ক্রিসমাস বা ঈদের মতো একটি সার্বজনীন উৎসব বলে মনে করেন বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষরা। আর সেই ভাবনা থেকেই হাওড়ার বাউড়িয়া পূর্ব বুড়িখালি শিব কালি মন্দির চত্বরে শুরু হল শ্রীরামের পুজো। উলুবেড়িয়া পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের উদ্যোগে ও কাউন্সিলর ডেভিড রাওয়ের সহযোগীতায় এই রামনবমী উৎসবে উপস্থিত হন হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান সহ এলাকার বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষরা। আচার অনুষ্ঠান মেনে শ্রী রামের পুজো থেকে পুস্পাঞ্জলি সবেতেই অংশ নেন তারা।
কাউন্সিলর ডেভিড রাও বলেন, শ্রীরাম হলেন রাজা। তিনি হলেন শৌর্য, বীর্য ও শক্তির প্রতীক। তাই রামের পুজো মানে রাম রাজার পুজো ৷ তাই তারা এবছর রামনবমী থেকে শ্রীরামের পুজোয় মেতে উঠেছেন জাতি, ধর্ম, বর্ন নির্বিশেষে।সমাজসেবী বেনু সেন, স্থানীয় চার্চের ফাদার অনিল আদক, সংখ্যালঘু নেতা হোসেন কাজী, সমাজসেবী আতিবুর কাজি,মিজানুর রহমান,স্বপন শীল সহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ ও এলাকার বিশিষ্ট চিকিৎসক সুমন সাঁপুই ও এলাকার যুবকরা জানান, একজন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী হয়ে ডেভিড রাও যেভাবে রাজা রামের পুজোর আয়োজন করেছেন তাতে তারা খুবই খুশি। আগে তাদের অনেক দূরে রামরাজাতলায় যেতে হত। এবার থেকে তাদের ওয়ার্ডেই প্রতিবছর রাজা রামের পুজো হবে।