নিজস্ব প্রতিনিধি: কেন্দ্রের কদর্য রাজনীতির কোপে বাংলার(Bengal) একাধিক নাট্যদল(Theater Groups)। কেননা, আচমকাই রাজ্যের বেশ কয়েকটি নাট্যদলের অনুদান(Grants for Publicity and Promotion of Theater Groups) বন্ধ করল কেন্দ্রীয় সরকার(Government of India)। আর নেপথ্যে দেখানো হয়েছে নানা কারণ। সেই ঘটনাই কার্যত বলে দিচ্ছে, ফের গেরুয়া রাজনীতির শিকার বাংলার নাট্যমহল। বহু বছর ধরেই নাটকের প্রচার ও প্রসারের জন্য বিভিন্ন নাট্যদলের পরিচালক ও বাকি সদস্যদের ‘গুরু-শিষ্য পরম্পরা’ নামে অনুদান দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। সম্প্রতি কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন কারণে বাংলার বেশ কয়েকটি নাট্যদলের অনুদান বন্ধ করা হয়েছে। এর নেপথ্যে নাট্য ব্যক্তিত্বরা রাজনীতির গন্ধই পাচ্ছেন। যে সব নাট্য পরিচালকের নাট্যদলের অনুদান কেন্দ্র সরকার বন্ধ করে দিয়েছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মেঘনাদ ভট্টচার্য, দেবেশ চট্টোপাধ্যায়, পৌলমী চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ।
আরও পড়ুন Maa Flyover-এ এবার থেকে গাড়ি খারাপ হলেই ৫০০০ টাকা জরিমানা
এই ঘটনার জেরে সংবাদমাধ্যমকে নাট্যকার মেঘনাদ ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ‘১৮ বছর ধরে কেন্দ্রের অনুদান পাচ্ছিলাম। কিন্তু এবার তা বন্ধ হল। কেন্দ্রের থেকে যে চিঠি পাঠানো হয়েছে, তাতে একেক জনকে একেকরকম কারণ দেখানো হয়েছে। কাউকে বলছে, তুমি সবল হয়ে গেছ। কাউকে বলছে সংগঠন করছ, ভাল তুমি নিজেই পারবে। আমার নিজের ধারণা, কেউ একটা তালিকা বানিয়ে দিয়েছে। অবশ্যই, বেছে বেছে করেছে। দেখা যাচ্ছে তার রাজনীতির সঙ্গে আমার রাজনীতি যেহেতু মিলছে না তাই কিছু দলকে অনুদান দিয়েছে, কিছুর বন্ধ করে দিয়েছে।’ অনুদান বন্ধ হয়েছে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মেয়ে পৌলমী চট্টোপাধ্যায়ের নাট্যদল ‘মুখোমুখি’রও। পৌলমী এই প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘আমরা নাকি Self-Reliant আর Sustainable দল। বাড়ি ভাড়া করে রিহার্সাল দিতে হত। আমরা যে ১৫ জনের গ্রান্ট পেতাম, ১৫টা ছেলেমেয়েকে কিছু দিয়ে চালাতাম। একটা কিছু Provide করতে পারতাম। থিয়েটারের তো এমনিতেই টাকা নেই। সেটা এরা যদি হঠাৎ বন্ধ করে দেয়, আমরা তো অথৈ জলে পড়লাম। এটা অত্যন্ত অন্যায় কাজ করল।’
আরও পড়ুন মমতাই ঠিক, তিস্তা জলবন্টন চুক্তি চাইছেন না বিশেষজ্ঞরাও
নাট্যকার দেবেশ চট্টোপাধ্যায়(Debesh Chattopadhay) আবার জানিয়েছেন, ‘কেন্দ্রের বিজেপি সরকার মনে করছে, Grant বন্ধ করে তাঁরা আমাদের বিরোধী স্বর বন্ধ করবে, কিন্তু যদি তাঁরা এটাই ভেবে থাকেন তো তাহলে তাঁরা খুব বড় ভুল করছেন।’ তবে অভিনেতা ও বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষের(Rudranil Ghosh) দাবি, ‘যাঁরা বলছেন, বিজেপির বিরোধিতা করছে বলেই অনুদান বন্ধ করে দিয়েছে, তাঁদের কথায় সূত্র ধরেই বলছি। এই কেন্দ্রই শিল্পকে বাঁচানোর জন্য, নাটকের প্রচারের জন্যই Grant দেয়। আপনারা, নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাসের দলকে বড় করে দেখানোর জন্য, যারা গ্রান্ট দিচ্ছে, তাঁদের বিরোধিতা করছেন। তাঁকে শত্রু বলে মনে করা হচ্ছে। একদমই এই কারণ নয়। গোবরডাঙার একটি দল, থিয়েটার হল নির্মানের জন্য Grant পেয়েছিল প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা মতো। পরে দেখা গেল, সেই থিয়েটার হলে বিয়ে বাড়ি ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। সেই কারণেই অনুদান বন্ধ হচ্ছে। রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত, বিভাস চক্রবর্তীর মতো প্রবাদপ্রতীম নাট্যব্যক্তিত্বদের Grant তো বন্ধ হচ্ছে না।’