নিজস্ব প্রতিনিধি: নিজের প্রাক্তন স্ত্রীকে ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় হতবাক নিহত সুমিতা ঘোষের প্রাক্তন স্বামী সুদীপ্ত ঘোষ। এই ঘটনায় তার প্রতিক্রিয়া খারাপ লাগছে সুমিতাই তো আমার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে চলে গিয়েছিল এখন আমার কি করার আছে? কি বা বলার আছে? সুদীপ্ত ঘোষ পূর্ব বর্ধমান জেলার নাদন ঘাট কালীতলার বাসিন্দা। মঙ্গলবার সংবাদ মাধ্যমে শ্রী সুমিতার খুন হওয়ার কথা জেনে তিনি শিউরে উঠেছিলেন। তারপর থেকে তিনি মানসিকভাবে কিছুটা ভারাক্রান্ত। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সুদীপ্ত ঘোষ বলেন, সুমিতার সঙ্গে আমার বিয়ে হয়েছিল।
কিন্তু সংসার টিকল না। ২০১৮ সালে আমাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছিল। কিন্তু কেন বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছিল সে ব্যাপারে সংবাদমাধ্যমকে বিস্তারিত কিছু জানাতে চান নি সুদীপ্ত ঘোষ। সূত্রের খবর, পারিবারিক অশান্তির কারণে দুজনের সম্পর্ক ভেঙেছিল। এক সময় সুদীপ্ত ঘোষ একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন। তখন গ্রামের বাড়িতে কম থাকতেন। বিবাহ বিচ্ছেদের পর থেকে আর চাকরি করেন না সুদীপ্ত। গ্রামে চাষবাস করেন। সুমিতা দেবীর এই পরিণতিতে স্তম্ভিত এই গ্রামের বাসিন্দারা। টিভিতে দেখার পর ওই গ্রামের সকলেই খুব খারাপ লাগছে কারণ সে তো এই গ্রামেরই বউ ছিল।
স্রেফ সম্পত্তি আর টাকার লোভে সুমিতাকে খুন করেন ফাল্গুনী এবং তার মা আরতি। দুজনকেই পুলিশ গ্রেফতার করেছে। খুন করে ট্রলি ব্যাগে সেই মৃতদেহ ভ্যানে করে এবং পরে ট্যাক্সি ভাড়া করে কুমোরটুলি গঙ্গার ঘাটে ফেলতে গিয়ে স্থানীয় মানুষের হাতে ধরা পড়েছিল মা ও মেয়ে। পরে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। রাতেই ফাল্গুনীকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে যে ইট দিয়ে থেতলে পিসি শাশুড়িকে খুন করেছিল তা উদ্ধার করে পুলিশ। ফরেনসিক টিমও মঙ্গলবার রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে। মধ্যমগ্রামের বীরেশ্বর পল্লীতে যে বাড়িতে এই নৃশংস খুনের ঘটনা ঘটে সেই বাড়িটি এবং পাড়াকে ঘিরে এখন শুধুই আতঙ্কের ছায়া।