নিজস্ব প্রতিনিধি: ওস্তাদের মার শেষ রাতে। আরজি কর কাণ্ড নিয়ে ঘোলা জলে মাছ ধরতে প্রথম থেকেই সক্রিয় ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আরএসএসের ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের একাংশের নবান্ন অভিযানের পিছনে তাঁর পূর্ণ মদতের কথা আগেই প্রকাশ্যে এসেছিল। নবান্ন অভিযানের ডাক দেওয়া এক স্বঘোষিত ছাত্র নেতা ধর্ষণে অভিযুক্ত হওয়ায় আন্দোলনে সরাসরি জড়ানো হবে কিনা তা নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন বঙ্গ বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত নবান্ন অভিযান নিয়ে তাঁকে তেমন মুখ খুলতে ডাকা যায়নি। কিন্তু দুপুরের পরেই বদলে যায় পরিস্থিতি। বিধানসভার বাইরে দাঁড়িয়ে নবান্ন অভিযানের নামে পুলিশের উপরে আক্রমণকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে বাংলাকে স্তব্ধ করার ঘোষণা করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আর তার খানিক বাদেই আচমকা ১২ ঘন্টার বাংলা বন্ধ ডেকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতাকে রাজনৈতিকভাবে টেক্কা দিয়ে গেলেন বঙ্গ বিজেপির মুখিয়া।
শুধু বাংলা বন্ধ ডেকেই ক্ষান্ত দেননি সুকান্ত। আচমকাই নবান্ন অভিযানে পুলিশকে মারধরে অভিযুক্তদের ছাড়ানোর আবদার জানিয়ে সদলবলে লালবাজার অভিযানের ডাক দেন তিনি। রাস্তার উপরেই বসে পড়েন তিনি। দলের সভাপতি লালবাজার অভিযানে সামিল হয়েছেন জানতে পেরেই বিবি গঙ্গোপাধ্যায় স্ট্রিটে পিলপিল করে জড়ো হতে থাকেন মহাত্মা গান্ধি রোডে মিছিলের নামে তাণ্ডব ও সন্ত্রাস সৃষ্টিকারীরা। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে অনেকেই লালবাজারের দিকে এগোনোর চেষ্টা করেন। বাধ্য হয়েই লালবাজারকে রক্ষা করতে বিজেপি কর্মীদের ভিড়ে থাকা দুষ্কৃতীদের জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, লকেট চট্টোপাধ্যায়রা যখন লালবাজার অভিযানে ব্যস্ত, তখন অনেক দূরে দলীয় অফিসে বসে সাংবাদিক সম্মেলন করে রাজ্য সরকারকে নিশানায় ব্যস্ত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী-অগ্নিমিত্রা পালরা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, শুভেন্দু অধিকারী যাতে নবান্ন অভিযান নিয়ে পুরোপুরি প্রচারের আলো শুষে নিতে না পারেন, তার জন্য শেষ মুহুর্তে আসরে নেমেছেন সুকান্ত মজুমদার। রাজনৈতিক বুদ্ধির খেলায় শুভেন্দু অধিকারীকে হেলায় হারিয়ে দিয়েছেন বঙ্গ বিজেপির মুখিয়া।