নিজস্ব প্রতিনিধি, নিউটাউন: শনিবার রাতে নিউ টাউনের রাম মন্দির আইল্যান্ডের কাছে চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলেন ভাঙ্গরের বাসিন্দা নাসিরুদ্দিন খান। সেই সময় তাকে দুজন দুষ্কৃতী বাইকে করে এসে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। তদন্তে নামে ইকোপার্ক থানার পুলিশ। রবিবার ভোর রাত থেকে দুজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জেরায় বেশকিছু অসংগতি পায় পুলিশ । সেই কারণে কাজী রফিকুল ইসলাম(Kazi Rafikul Islam) নামে তার বিজনেস পার্টনারকে গ্রেফতার করে ইকোপার্ক থানার পুলিশ। শনিবার নিউটাউনে ইকো পার্কের সামনে ভর সন্ধ্যায় এক যুবককে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ। তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বাইকে করে এসে দুজন দুষ্কৃতী ওই যুবককে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তখন সে ইকো পার্কের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয়রাই ছুটে আসে ঘটনাস্থলে। লোকজনের ভিড় দেখে চম্পট দেয় আততায়ীরা। এরপর আহত যুবককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন স্থানীয়রাই। সে ভাঙড়ের (Bhangar)বাসিন্দা বলে জানা যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ।
শনিবার রাতে নিউটাউনে নাসির উদ্দিন মণ্ডল গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হন। খুন হয়ে যাওয়া এই ব্যক্তির বাড়ি ভাঙড়ের পোলেরহাট থানার(Polerhat P.S.) টোনাউড়িয়া পাড়ায়। এই খুনের ঘটনা থেকে প্রমানিত হচ্ছে যে রাজ্যের আইন শৃঙ্খলার পরিস্থিতি একেবারেই ভেঙে পড়েছে এমনটাই অভিযোগ করেন বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী(MLA Nausad Sidiqi)। সাধারণ মানুষের ন্যূনতম নিরাপত্তাটুকুও অবহেলিত বলে দাবি করেন তিনি। আইএসএফ চেয়ারম্যান ও স্থানীয় বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকী মৃতের পরিবারের সাথে দেখা করে তাঁদের পাশে সবসময় থাকবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। পুলিশ ইতিমধ্যে এই খুনের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে চিহ্নিত করেছে বলে তিনি জানান। প্রয়োজনে আইনি সহায়তা সহ যে কোন প্রয়োজন পরিবার চাইলে তিনি তা প্রদান করবেন বলে পরিবারটিকে জানিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, পুলিশ যদি তদন্তে গড়িমসি করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে তাহলে রাস্তায় নেমে আন্দোলনে যাওয়া হবে।
তবে আশা করা যায় পুলিশ শীঘ্রই এই তদন্তের কাজ শেষ করে খুনীদের গ্রেপ্তার করবে। বিধায়কের সঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলা পরিষদের সদস্য রাইনুর হক মোল্লা, স্থানীয় পঞ্চায়েতের সদস্যা সহ আইএসএফের আঞ্চলিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। রবিবার সন্ধ্যায় পুলিশ নিউ টাউনে ব্যবসায়ী খুনে গ্রেফতার এক বলে জানিয়ে দেয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে নাসিম উদ্দিন এবং রফিকুল এর মধ্যে ব্যবসা সংক্রান্ত হিসেবে গরমিল নিয়ে ঝামেলা চলছিল। নাসিমুদ্দিনকে খুন করতে পেশাদারী খুনি ভাড়া করা হয়েছে কিনা তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।