নবান্ন অভিযানে ভিড়ে মিশে থাকা চক্রান্তকারীদের মূল টার্গেট থাকবে ‘পুলিশ’,আশঙ্কা গোয়েন্দাদের

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: মঙ্গলবার ছাত্র সমাজের ডাকে ‘নবান্ন অভিযান’ কর্মসূচিকে ঘিরে ব্যাপক গোলমালের আশঙ্কা গোয়েন্দাদের। নবান্ন অভিযানকে কেন্দ্র করে কুচক্রীদের মূল টার্গেট থাকবে ‘পুলিশ’ অর্থাৎ পুলিশকে আক্রমণ করা। পুলিশকে উত্ত্যক্ত করে রক্তাক্ত করে গুলি চালাতে বাধ্য করা। জানা গিয়েছে, মূলত হাওড়াতে গোলমাল পাকানোর সবথেকে বড় সম্ভাবনা রয়েছে। মিছিলের উদ্যোক্তারা কলেজস্ট্রিট ও হাওড়ার সাঁতরাগাছি এলাকাতে জড়ো হয়ে মিছিল দিয়ে এগোবে বলে ঘোষণা করে থাকলেও গোয়েন্দাদের দাবি বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন দিক থেকে মিছিল নবান্নের দিকে এগোবার চেষ্টা করবে। গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী যদি অনেক বেশি লোক জড়ো হয় সেক্ষেত্রে মিছিল নিয়ন্ত্রণ করার মতো ক্ষমতা উদ্যোক্তাদের হাতে থাকবে না।

এই বিশৃঙ্খলা রুখতে কলকাতা ও রাজ্য পুলিশ মিলিয়ে মোট ১০ হাজার ফোর্স মঙ্গলবার সকাল থেকে রাস্তায় নামবে। হাওড়ার নবান্নচত্বর এলাকায় সমস্ত দোকানপাট ঐদিন বন্ধ করে দেবে প্রশাসন। ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকা এলাকায় যাতে কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় তার জন্য নবান্নের বহু আগে একাধিক ব্যাড়িকেট গড়ে তোলা হবে হাওড়া সাঁতরাগাছি সহ নবান্নের চারপাশ এলাকা ঘিরে। প্রায় ১৮টি ব্যারিকেড তৈরি করা হবে। প্রস্তুত থাকবে জল কামান ও কাঁদনে গ্যাসের সেল ছোড়ার কাজে দক্ষ বজ্র। মূলত জল কামান ও লাঠিচার্জের মাধ্যমে পুলিশকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মোট ১৭৯ জন আইপিএস অফিসারকে বিভিন্ন জায়গায় বিশৃঙ্খলা ঠেকানোর জন্য গোটা পরিস্থিতি নজরে রাখতে তদারকির জন্য বলবৎ করা হচ্ছে। রাখা হবে ড্রোন। পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিক ক্যামেরাম্যান বিভিন্ন পয়েন্টে দেওয়া হবে।

যাতে যারা আক্রমণ করবে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে তাদের চিহ্নিত করা যায় পরে। প্রয়োজনে জল কামানে রং মিশিয়ে ছোড়া হবে বিক্ষোভকারীদের দিকে। যাতে পরে তাদের ধরতে বা চিহ্নিত করতে পুলিশের সুবিধে হয়। একাধিক পয়েন্টে পুলিশের পক্ষ থেকে রাখা থাকবে অ্যাম্বুলেন্স। যাতে কেউ গুরুতর আহত হলে তাকে হাসপাতালে পৌঁছানো যায়। প্রচুর পরিমাণে মহিলা পুলিশ ও মোতায়েন হচ্ছে সর্বত্র। গোয়েন্দাদের কাছে যে তথ্য এসেছে সে অনুযায়ী হাওড়ায় কোন ধর্মীয় স্থানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় গোলমাল পাকানোর বড় চক্রান্ত করা হয়েছে। শুধু তাই নয় মিছিলে স্কুল কলেজের ছাত্রদের সামনের দিকে রাখার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। শহর শহরতলীর পাশাপাশি জেলা থেকেও বহু ছাত্র-ছাত্রীদের যাতে ওই নবান্ন অভিযানে শামিল করা যায় তার জন্য নানা ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নবান্নের সবকটি গেট বিক্ষোভ শুরু হলেই তালা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শহরে ট্রাফিক চলাচলের ক্ষেত্রেও পুলিশকে বিশেষ নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে যানবাহনে আক্রমণ করতে না পারে বিক্ষোভকারীরা।

শুধু নবান্ন নয়, বিধানসভা, লালবাজার সহ মুখ্যমন্ত্রীর কালীঘাটের বাসভবন ঘিরে মঙ্গলবার সকাল থেকে পুলিশের কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে নবান্নের দিকে এখনো আগেই ভিড় জাতীয় অতিরিক্ত না হয় তার জন্য দফায় দফায় গ্রেপ্তার করে নেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এদিকে গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য অনুযায়ী ওই দিন মিছিলের মধ্যে চক্রান্তকারীরা তারা সঙ্গে লাঠি, ইট, পাটকেল, পচা ডিম ইত্যাদি নিয়ে আসবে পুলিশকে আক্রমণ করতে। থাকবে রং এবং কালো কালি। উদ্দেশ্য একটাই নবান্ন অভিযানকে কেন্দ্র করে আরজি কর ইস্যুতে পুলিশকে আক্রমণ করা। গোয়েন্দারা এও জানতে পেরেছে রবিবার রাত থেকেই পুরুলিয়া বাঁকুড়া সহ বিভিন্ন জেলা থেকে মিছিলে ভিড় বাড়াতে ছাত্রদের এবং অল্প বয়সের যুবক-যুবতীদের নিয়ে আসা হচ্ছে শহরে। এদিকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিয়েছেন যে ,তাদের দলের পক্ষ থেকে কোন কর্মী সমর্থক এবং সভ্যরা যদি ওই কর্মসূচিতে স্ব ইচ্ছায় দলীয় পতাকা ছাড়া অংশগ্রহণ করে তাতে তাদের কোন আপত্তি নেই। ডি ওয়াই এফ আই এর পক্ষ থেকে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছেন তার নাম ব্যবহার করে ওই মিছিলের উদ্যোক্তারা যে প্রচার করেছে এ বিষয়টি তিনি তীব্র নিন্দা করছেন। বামেদের মঙ্গলবার পৃথক জেলায় জেলায় যে কর্মসূচি আছে তাতে তারা যুক্ত থাকবেন। এই মিছিলে তারা অংশগ্রহণ করবেন না। তবে সব মিলিয়ে মঙ্গলবার অশান্তির আশঙ্কায় কলকাতা শহর যে অনেকটাই জনমানব শূন্য থাকবে তা বলা যেতেই পারে।

লড়াই করেও গুজরাতের কাছে হেরে গেল কেকেআর

‘দিল্লি থেকে এল গাই, সাথে এল মোটা ভাই’, শাহ-এজেন্সিকে কটাক্ষ মমতার

‘‌আমি আইনি পদক্ষেপ করব’‌, এজেন্সির অপব্যবহার নিয়ে সুর সপ্তমে মমতার

হেশতলায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ছিন্নভিন্ন মহিলার দেহ, গুরুতর আহত স্বামী

আফগানিস্তানে তীব্র ভূমিকম্প! হু হু করে মৃত্যু বেড়ে ২৫০, আহত ৫০০

সংগঠনে নজর দিতে আরামবাগ ও ঘাটালের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক অভিষেকের

পাকিস্তানেই তৈরি হয় সন্ত্রাসবাদের ভিত্তি, চিনে নাম না করেই শাহবাজকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

[hls_player autoplay="1" fullscreen="1" unmute="0"]