Loading live market data...
Loading active stocks...
Connecting...
Heatmap
×

‘আমার বাড়িতে গেলে আন্দোলনে নামবেন তো?’ প্রশ্ন মমতার

বলেন, বিজেপি বুঝে গিয়েছে হার নিশ্চিত। এরপরেই দৃঢ় কন্ঠে তিনি বলেন, তার মানে মমতা ও তৃণমূলকে ভয় পেয়েছে বিজেপি ও বিজেপি শাসিত কেন্দ্র।

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি:  তাঁর বাড়িতে যদি ইডি, সিবিআই আসে তাহলে কর্মীরা কী করবেন ? রবিবার বেহালার মঞ্চ থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (MAMATA BANERJEE) কর্মীদের উদ্দেশে এই প্রশ্ন তোলেন। তারপরই তিনি বলেন, “আমার বিষয়টি আমি বুঝে নেব। আপনারা রাস্তায় থাকবেন তো?’ তাঁর অভিযোগ, সকালে বিকালে সন্ধ্যায় নোটিশ ধরানো হচ্ছে তৃণমূলকে। বিরোধীদের আক্রমণ করে তিনি বলেন, বিজেপি চাইছে বিজেপি থাকুক। আর থাকুক কংগ্রেস ও সিপিএম। অন্য কোনও বিরোধী দল যাতে না থাকে। 

কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করা হচ্ছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ বারবার করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন আবারও সেই প্রসঙ্গই তুলে আনলেন তিনি। ডাক দিলেন লাগাতার আন্দোলনের। এই দিন তিনি বলেন ১৫ অগাস্ট থেকে আরও একবার নতুন করে শুরু হবে স্বাধীনতা আন্দোলনের। বলেন, ভাষণ নয় খাদ্য চাই। ইতিহাস বদলানো যাবে না। এদিন তিনি এও বলেন, ‘বিজেপি- কংগ্রেস- সিপিএম ভাই ভাই। দেশে এঁদের ঠাঁই নাই’।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী বিজেপি শাসিত কেন্দ্রকে আক্রমণ শানিয়ে বলেন, জনগণের সব অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। লোপাট হচ্ছে হাজার হাজার- কোটি কোটি টাকা। বলেন, অন্যান্য পার্টির মত তৃণমূলেরও মুখ বন্ধ করতে চায় বিজেপি। তারপরেই বলেন, শহিদদের রক্তে স্নান করেছে এই বাংলা- এই দেশ। পাল্টা আক্রমণের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘লড়ব তবু ডরব না’। এদিন তিনি বলেন, বিজেপির সৌজন্যতা বোধটুকু নেই। মেট্রোরেলের জন্য দু’লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিলেন তিনিই। অথচ তাঁকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ক্রেডিট নিয়ে উদ্বোধন করছেন অন্য কেউ।

এদিন তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় এজেন্সি দিয়ে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। বাংলার মানুষের আশীর্বাদেই তৃণমূল রাজ্যের মসনদে। লড়াই এই প্রথম তিনি করছেন না। এই বেহালাতে তিনি লড়েছিলেন ১৯৮৪ সালেও। তারপরেই বলেন, কী ভাবে আন্দোলন করতে হয়, তা তাঁর জানা আছে।

অনুব্রত মণ্ডলের পাশে যে তিনি আছেন, তাই এদিন বুঝিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি বলেন, কেষ্ট তাঁর স্ত্রীর অসুস্থতার সময়ে শুধু কলকাতা আর বোলপুর যাতায়াত করেছে। দলকে এমনই ভালবাসতো ওর স্ত্রী, যে সেই সময়েও বলেছে তার পাশে না থেকে দলের কাজ করতে। তাঁর প্রশ্ন, কেষ্টর অপরাধ কী? ওর লোভ নেই বলে ও রাজ্যসভার সদস্যও হতে চায়নি। কেন্দ্রীয় এজেন্সির নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মমতা। তাঁর প্রশ্ন কয়লা মন্ত্রক কার অধীনে, সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব কার? উত্তর প্রদেশ থেকে গরু পাচার হয়ে আসে কী করে?

কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে তিনি আরও বলেন, অনেক পাবলিক সেক্টর বিক্রি করে দিচ্ছে কেন্দ্র। লুঠ হচ্ছে ব্যাংকের টাকা। এসবে কেন ইডি এবং সিবিআই তদন্ত হয় না? তাঁর কটাক্ষ, ব্যাংকে টাকা রাখতে যাবেন সেখানেও ধরিয়ে দেবেন নোটিশ। এরপরেই তিনি বলেন, অভিযোগ করার আগে এই তথ্য কোথা থেকে পাওয়া গিয়েছে তা উল্লেখ করতে হবে। শুধু সূত্র বলে বললে হবে না। তৃণমূল সুপ্রিমোর অভিযোগ, আসলে বদনাম করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় এজেন্ট থেকে নিশানা করে তাঁর প্রশ্ন, সিবিআই এতই ভাল কাজ করে যে আজও নোবেল উদ্ধার হলো না।

এদিন তাঁর এবং দলের টাকার উৎস সম্বন্ধে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, তিনি বই থেকে প্রচুর পরিমাণে রয়্যালটি পান‌। তিনি ইনকাম ট্যাক্স এবং অন্যান্য কর দেন। তবু দলকে কেন্দ্রীয় এজেন্সি দিয়ে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। বলেন, কেউ সত্যিই অন্যায় করলে এজেন্সি ব্যবস্থা নিক কিন্তু কেষ্টকে কেন গ্রেফতার করা হয়েছে? তৃণমূল সুপ্রিমোর অভিযোগ, তদন্তের নামে অনুব্রত মণ্ডলের বাড়িতে তাণ্ডব চালিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাঁর প্রশ্ন, প্রতিবার নির্বাচনের সময় কেন কেষ্টকে ঘরবন্দি করে রাখা হয়? কেন আসানসোলে বিধানসভা নির্বাচনের সময় তৃণমূল প্রার্থীকে বন্দি করে রাখা হয়? তবুও তো মানুষের রায়ে জয়ী হয় তৃণমূল কংগ্রেস।

বর্তমান সরকারের কাজ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, বিনা পয়সায় রেশন, ট্যাব, সাইকেল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সহ বিভিন্ন প্রকল্প রয়েছে। এই সমস্ত উন্নয়নের পাশে রয়েছে মানুষ। অথচ দিল্লিতে সন্ধ্যার পর বাড়িতে জল পর্যন্ত পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। গ্যাস, পেট্রোল, ডিজেল সহ বিভিন্ন দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি ইস্যুতেও এদিন সরব হয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, বাংলার উন্নয়নে ভয় পেয়ে বারবার মমতার নাম মুখে আনছে। সব সময়ই লেগে রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি বুঝে গিয়েছে, হার নিশ্চিত। এরপরেই দৃঢ় কন্ঠে তিনি বলেন, তার মানে মমতা ও তৃণমূলকে ভয় পেয়েছে বিজেপি ও বিজেপি শাসিত কেন্দ্র। কেন্দ্রকে নিশানা করি তিনি বলেন,‌ বাক স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা সমস্ত কিছুই থাকা উচিত কিন্তু বিজেপি তা হরণ করছে।

এদিন তিনি বলেন, বিজেপি একবার ঠান্ডার কথা বলে। একবার ডান্ডার কথা বলে। বিরোধীদলের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করছে সব সময়। দেশপ্রেম বাইরে দেখাতে চাইছে কিন্তু স্বাধীনতা আন্দোলনের পাঁচটা গান পর্যন্ত বলতে পারবে না। অথচ তিনি ছোট থেকেই হারমোনিয়াম বাজিয়ে দেশাত্মবোধক গান করেন বলে দাবি করেছেন। সারদা ইস্যুতে বামেদের দিকেও তির শানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন সারদার জন্ম হয়েছিল পূর্বতন সরকারের সময়েই। সারদার দেওয়া বিজ্ঞাপন ইস্যুতেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

ভোটের মাঝে আচমকাই অভিষেককে ফোন রাহুলের!

মালদা টাউন স্টেশন থেকে ২ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী গ্রেফতার

তামিলনাডুতে পর্যটক বোঝাই গাড়ি পড়ল খাদে, নিহত কমপক্ষে ৯ জন

তৃণমূলের হয়ে কাজের অভিযোগ! পাঁচ বিএলওকে সাসপেন্ড ও এফআইআরের নির্দেশ কমিশনের

বুথে যেতে অপরাগ! বাড়িতেই ভোট দিলেন শতায়ুরা, রয়েছে আবেদন বাতিলের অভিযোগও

‘হরমুজে পুঁতে রাখা মাইন সরাতে যৌথভাবে কাজ করছে আমেরিকা-ইরান’, দাবি ট্রাম্পের

0:00