নিজস্ব প্রতিনিধি: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আক্রান্ত রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। ভাঙা হল তাঁর গাড়ির কাঁচ। আহত হলেন মন্ত্রীর দেহরক্ষী। ছাত্র সংঘর্ষে জখম দুই অধ্যাপক-সহ চারজন। যাদবপুর থানার সামনে বিক্ষোভ ওয়েবকুপার সদস্যদের। যাদবপুর থানা(Jadhavpur P.S.) সামনে রাস্তা অবরোধ করে পাল্টা বিক্ষোভ পড়ুয়া নামধারী গুন্ডাদের। যার ফলে স্তব্ধ যান চলাচল।
শনিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় গিয়ে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু(Education Minister Bratya Basu)। তৃণমূল অধ্যাপকদের সংগঠন ওয়েবকুপার বৈঠক সেরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরোনোর সময় বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন ছাত্ররা। শিক্ষা মন্ত্রীর গাড়ির চাকার হাওয়া খুলে দেন ছাত্ররা। নকশাল পন্থী ছাত্ররা চোর চোর এবং গো – ব্যাক স্লোগান দিতে শুরু করে।
শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ির সঙ্গে থাকা দুটি পাইলট কার তারা ভাঙচুর করে। শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ি লক্ষ্য করে ইট ছুঁড়লে কাঁচের টুকরো এসে মন্ত্রীর গায়ে লাগে এবং তিনি আহত হন। চিকিৎসার জন্য শিক্ষা মন্ত্রীকে নিয়ে যায় এসএসকেএম (SSKM)হাসপাতালে। বিক্ষোভ থেকে রেহাই পাননি অধ্যাপকরা। রীতিমত ধস্তাধস্তি শুরু হয় ছাত্রদের সঙ্গে ওয়েব কুপার সদস্যদের। যাদবপুরের অধ্যাপক তথা ওয়েবকুপার সদস্য ওম প্রকাশ মিশ্রকে লাঠি নিয়ে তাড়া করে বাম এবং অতিবাম সংগঠনের গুণ্ডাধারী পড়ুয়ারা। বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা রক্ষীরা এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
এর মধ্যে এক পড়ুয়ার মাথা ফেটে যায় আহত হন আরো দুজন অধ্যাপক এক মহিলা অধ্যাপকের শাড়ি ছিঁড়ে দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়(Jadavpur Univercity) পঠন পাঠন শিকেয় তুলে দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা আন্দোলন করতে অভিক্ষোভ দেখাতে রাস্তায় নেমে পড়েন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আহত অবস্থায় বেরোনোর সময় ব্রাত্য বসু বলেন “এই গুন্ডামি চলতে পারেনা। পড়ুয়াদের চারজন প্রতিনিধির সঙ্গে তাদের দাবি দাবা নিয়ে কথা বলতে পারি কিন্তু সবাই মিলে গুন্ডামি করলে মুশকিল। তবে আমি কোন প্ররোচনায় পা দেবো না। এই ব্যাপারে যা ব্যবস্থা নেবেন উপাচার্য স্বয়ং।”রাজ্যে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন” যদি এটা উত্তরপ্রদেশ হতো কোন ছাত্র সংগঠন এই কাজ করতে পারতো? ইচ্ছে করলেই শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ঢাকায় যেত কিন্তু শিক্ষাঙ্গনে একজন পুলিশ ও যেন প্রবেশ না করে সে ব্যাপারে আমি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছি।
“শনিবার যাদবপুরের ওপেন এয়ার থিয়েটারে ওয়েব কুপার বৈঠকে যোগ দেন ব্রাত্য বসু। সেই বৈঠক শুরু হওয়ার আগেই তৈরি হয় উত্তেজনা, ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে স্লোগান দিচ্ছিলেন বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফ আই(SFI),আইশা, ডি এস এফ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় দু’নম্বর গেট আটকে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন বাম ও অতিবাম পড়ুয়ারা। ব্রাত্য বসুকে তিন নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করিয়ে ওপেন এয়ার থিয়েটারের পেছন দিয়ে মঞ্চে তোলা হয়। সেখান থেকে ফেরার সময় বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। ছাত্রদের হাতে আক্রান্ত হয়ে আহত হন। ভাঙচুর হয় তার গাড়ি।