নিজস্ব প্রতিনিধি: ওয়াকফ আইন বিরোধী আন্দোলনের নামে ক্রমশই অশান্তি ছড়াচ্ছে রাজ্যজুড়ে। মুর্শিদাবাদে শুরু হয়েছিল। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই তা ছড়াচ্ছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। নতুন করে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে ভাঙড়। আন্দোলনের নামে দাঙ্গা বাঁধানোর ষড়যন্ত্রে নেমেছে ধর্মের ব্যবসায়ীরা। আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, রাজ্যে কার্যকর হবে না ওয়াকফ আইন। তা সত্বেও রাজ্যে দদাঙ্গা বাঁধানোর পথে হাঁটছেন দাঙ্গাবাজরা। সোমবার (১৪ এপ্রিল) নববর্ষের প্রাক্কালে কালীঘাটের স্কাইওয়াকের উদ্বোধন করতে গিয়ে ফের একবার রাজ্যে শান্তি বজায় রাখার আর্জি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে আইন নিজের হাতে না তুলে নেওয়ার জন্য দাঙ্গাবাজদের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
আবহমান কাল ধরে সম্প্রীতির পীঠস্থান হিসাবেই পরিচিত বাংলা। অথচ গত কয়েক বছর ধরেই বাংলায় ধর্মের বিষ ছড়ানোর জঘন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ধর্মের বেওসায়ী রাজনৈতিক দলগুলির নেতারা। এদিন ফের একবার বাংলা যে সম্প্রীতির মাটি তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলা সম্প্রীতির মাটি। ধর্ম নিয়ে অধর্মের খেলা খেলতে নেই।’ নাম না করেও বিঁধে তিনি বলেন, ‘কারও উপর যদি আঘাত আসে, সে যে ধর্মের লোকই হোক, আমরা পাশেই দাঁড়াই। তাই বলি, কেউ কেউ প্ররোচনা দেবে, পা দেবেন না, মাথা ঠান্ডা রাখুন।’ আন্দোলনের নামে যেভাবে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর হচ্ছে, পুলিশের উপরে আক্রমণ চলছে তা নিয়েও কড়া বার্তা দেন মমতা। তাঁর কথায়, ‘আন্দোলনের অধিকার সবার রয়েছে। তবে আইন হাতে তুলে নেবেন না।’
ইতিমধ্যেই ওয়াকফ আন্দোলন নিয়ে রাজ্যজুড়ে যেভাবে অশান্তি ছড়াচ্ছে তাতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে রাজ্য সরকারকে বিঁধতে আসরে নেমে পড়েছে ‘রাম-বাম’ জোটের নেতারা। সমাজমাধ্যমেও চলছে গুজব ছড়ানো ও উস্কানিমূলক পোস্ট। তাতে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটছে।