নিজস্ব প্রতিনিধি : শহরের ভাড়া বাড়ি ও লজ গুলিতে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ভিন রাজ্যের দুষ্কৃতীদের কলকাতা শহরে অবাধ আনাগোনা রুখতে আরো কড়া ব্যবস্থা নিচ্ছে কলকাতা পুলিশ। লালবাজারে (Lalbazar)সাংবাদিক সম্মেলন করে জানালেন কলকাতা পুলিশের সিপি মনোজ ভার্মা(CP Manoj Verma)। তিনি বলেন, সারা বছর বেআইনি অস্ত্র কারবারি ও দুষ্কৃতিদের ওপর নজরদারি চালায় কলকাতা পুলিশ। তবে ভিন রাজ্যের দুষ্কৃতীরা শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করছে, তা ঠিক নয়। ক্রিমিনালদের সর্বত্র সাধারণ মানুষের দিলে আনাগোনা রয়েছে। ইতিমধ্যে কলকাতা পুলিশ গোপন সূত্রে খবরের ভিত্তিতে বিহারে গিয়ে সেখানকার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে পরপর দুটি বেআইনি অস্ত্র কারখানার সন্ধান পায়।সুরেন্দ্রনাথ কলেজের পাশ থেকে সোমবার রাতে গ্রেফতার হওয়া ভিন রাজ্যের দুষ্কৃতীরা প্রত্যেকে উচ্চশিক্ষিত বলে জানালেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার।
সুরেন্দ্রনাথ কলেজের পাশ থেকে যে ভিন রাজ্যের দুষ্কৃতীদের সশস্ত্র অবস্থায় গ্রেফতার করা হয়েছে তাও সোর্স নেটওয়ার্ক এর খবর পাওয়ার ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি চালানোর পর সাফল্য পেয়েছে কলকাতা পুলিশ। এর আগেও শিয়ালদহ স্টেশন(Sealdaha Station) সংলগ্ন সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পাশ থেকে বেআইনি অস্ত্র কারবারীকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। শহর জুড়ে বিভিন্ন ভাড়া বাড়ি ও লজ গুলিতে দুষ্কৃতিদের ঘর ভাড়া নিয়ে থাকা এবং তাদের আনাগোনার ওপর পুলিশের নজরদারি চলছে। কসবায় কাউন্সিলরের ওপরে আক্রমণের চেষ্টার ঘটনায় মূল পাণ্ডা সহ প্রধান দুষ্কৃতীদের অধিকাংশকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন বেআইনি অস্ত্র কারবারি ও বহিরাগত দুষ্কৃতিদের ওপর নজরদারি চলছে।
এর ফলেই গ্রেফতার হচ্ছে তারা। সোমবার রাতে সুরেন্দ্রনাথ কলেজের পাশ থেকে যে দুষ্কৃতীরা সশস্ত্র অবস্থায় ধরা পড়েছে তাদের এই শহরে কোন অপারেশন মোটিভ ছিল এটাই মনে করা হচ্ছে। তাদের হেফাজতে নিয়ে পরবর্তীকালে তা জানা যাবে বলে দাবি করেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার(CP)। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে, যে ৫জন দুষ্কৃতীদের গ্রেফতার করা হয়েছে তারা হল,শিব শংকর যাদব, রাহুল যাদব ,আদিত্য মউরা,দেবাংক গুপ্তা ও মুকেশ সাহানি। ধৃতদের প্রত্যেকের বয়স কুড়ি থেকে ত্রিশ বছরের মধ্যে। ধৃতদের কাছ থেকে এসটিএফ উদ্ধার করেছে দুটি সেভেন এম এম পিস্তল ১৬টি গুলি, একটি সিঙ্গেল শ’টার ও ১৫ রাউন্ড দু ধরনের কার্তুজ। তবে পুলিশ কমিশনার দাবি করেছেন শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, ভিন রাজ্যের দুষ্কৃতীদের আনাগোনা অন্যান্য রাজ্যেও রয়েছে।