Loading live market data...
Loading active stocks...
Connecting...
Heatmap
×

উন্নাসিকতা আর ঔদ্ধত্যের কারণে কখনই জননেতা হয়ে উঠতে পারেননি বুদ্ধদেব

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য আর নেই। আজ বৃহস্পতিবার পাম অ্যাভিনিয়ের বাড়িতেই চিরঘুমের দেশে পাড়ি দিয়েছেন। শোকস্তব্ধ বঙ্গের রাজনৈতিক মহল। কিন্তু আমজনতার মধ্যে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রয়াণ সংবাদ তেমন ছাপ ফেলতে পারেনি। যেমনটা হয়েছিল প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু কিংবা সুভাষ চক্রবর্তীর ক্ষেত্রে। অনেকে বলেন মৃত কারও সমালোচনা করতে নেই। কেননা, মৃত ব্যাক্তি নাকি সব আলোচনা-সমালোচনার ঊর্ধ্বে। তবুও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে কিছু কথা না বললেই নয়। আর অপ্রিয় ওই কথা লেখার জন্য প্রথমেই মার্জনা চেয়ে নিচ্ছি।

দীর্ঘ সাংবাদিকতার জীবনে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা হয়েছিল। নব্বইয়ের দশকে তখনও রাজ্যের মূল প্রশাসনিক কার্যালয় ছিল মহাকরণে। দোতলায় ত‍ৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু ও তথ্য-সংস্কৃতি মন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যরা প্রেস কর্নার থেকে ঢিল ছোড়া দুরত্বের ঘরে বসতেন। ভিআইপি লিফট থেকে নামার সময়ে জ্যোতি বসু-আসীম দাশগুপ্তরা মাঝেমধ্যে সাংবাদিকদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করতেন। কোনও প্রশ্ন থাকলে জবাব দিতেন। প্রয়াত সুভাষ চক্রবর্তী তো সাংবাদিকদের ঘরে ডেকে নিয়ে রীতিমতো আড্ডা দিতেন। কিন্তু বুদ্ধদেববাবু কার্যত সাংবাদিকদের তুচ্ছতাচ্ছ্বিল্যই করতেন। হাতে গোনা পছন্দের এবং সিপিএম মার্কা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতেন। বাকি সাংবাদিকদের মনুষ্য প্রজাতির মনেই করতেন না। কোনও অপ্রিয় প্রশ্ন করলে পাল্টা জিজ্ঞেস করতেন-কোন কাগজ (তখনও বৈদ্যুতিন মাধ্যম আসেনি)? শুধু তাই নয়, শ্রেণিশত্রু হিসাবে সাংবাদিকদের মনে করতেন। তাই গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন প্রেস কর্নার। তখন প্রতি শুক্রবার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সিপিএম রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক বসত। ওই বৈঠকে যোগ দিতে কালো কাঁচের ঢাকা গাড়িতেই তিনি আসা-যাওয়া করতেন। সাংবাদিকরা কোনও প্রশ্ন করলে উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে মুখের উপরেই গাড়ির দরজা বন্ধ করে দিতেন।

মহাকরণ থেকে বেরিয়ে প্রতিদিন সন্ধ্যায় পৌঁছে যেতেন নন্দনে। দোতলায় ত‍ৎকালীন অধিকর্তা অংশু শূরের ঘরে সান্ধ্য আড্ডা বসাতেন। সেই আড্ডায় প্রয়াত অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়-মৃণাল সেন সহ কলকাতার সিপিএমপন্থী গুটিকয়েক বিশিষ্টজন ছাড়া আর কারও প্রবেশাধিকার ছিল না। জ্যোতি বসুর মন্ত্রিসভায় থাকাকালীন যে উন্নাসিকতা ও ঔদ্ধত্য ছিল, তা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে আসীন হওয়ার পরে। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলন নিয়ে জ্যোতি বসুর মতো সংবেদনশীলতা দেখাতে পারেননি। বরং পেটোয়া আমলাকুল (অর্ধেন্দু সেন-অশোক মোহন চক্রবর্তী তার মধ্যে অন্যতম) ও পুলিশ আধিকারিকদের(গৌতম চক্রবর্তী) পরামর্শে আন্দোলন দমাতে বার বার চরম দমন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছিলেন। অহঙ্কার করে বলতেন, ‘ওরা ৩০,আমরা ২৩৫।’ নন্দীগ্রামে জমি আন্দোলনকারীদের উপরে পুলিশকে নির্বিচারে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই গণহত্যা সংগঠিত হওয়ার পরেও দুঃখপ্রকাশ করেননি। বরং অসংখ্য মানুষের মৃত্যুর পরেও ঔদ্ধত্য দেখিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বিরোধীদের সঙ্গে কখনই সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেননি। বরং বিরোধীদের অবজ্ঞাই করতেন।

যুব আন্দোলনের মধ্য দিয়ে উঠে এলেও কখনও আমজনতা এবং দলের নিচুতলার কর্মীদের সঙ্গে সাবলীলভাবে মিশতে পারেননি। সাধারণ মানুষ ও কর্মীদের কাছে প্রয়াত সুভাষ চক্রবর্তীর মতো ‘সুভাষ দা’ হয়ে উঠতে পারেননি। ‘বুদ্ধবাবু’ হয়েই থাকতে হয়েছিল। ২০১১ সালের বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পরে, ৩৪ বছরের রাজত্ব হারানোর পরে সিপিএমের একাধিক প্রবীণ নেতা  আমাকে আলাপচারিতায় বলেছিলেন, ‘দলের পতনের পিছনে বুদ্ধর উন্নাসিকতা আর ঔদ্ধত্যই প্রধান কারণ। কেননা, বাংলার মানুষ কখনই জ্যোতি বসুর আসনে বুদ্ধকে মানতে পারেননি।’

Buddhadeb Bhattacharjee : সাহিত্যানুরাগী বুদ্ধের কিছু জানা-অজানা কথা

প্রয়াত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, পাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ

বুদ্ধদেবের পদ্ম পদক ফেরানোয় সিপিএমকে ‘কাঁকড়ার’ সঙ্গে তুলনা দিলীপের

বুদ্ধবাবুর মূল্যবান ভোট হারাল কলকাতা, দাবি স্ত্রী-কন্যার

লড়াই করেও গুজরাতের কাছে হেরে গেল কেকেআর

‘দিল্লি থেকে এল গাই, সাথে এল মোটা ভাই’, শাহ-এজেন্সিকে কটাক্ষ মমতার

‘‌আমি আইনি পদক্ষেপ করব’‌, এজেন্সির অপব্যবহার নিয়ে সুর সপ্তমে মমতার

হেশতলায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ছিন্নভিন্ন মহিলার দেহ, গুরুতর আহত স্বামী

আফগানিস্তানে তীব্র ভূমিকম্প! হু হু করে মৃত্যু বেড়ে ২৫০, আহত ৫০০

সংগঠনে নজর দিতে আরামবাগ ও ঘাটালের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক অভিষেকের

পাকিস্তানেই তৈরি হয় সন্ত্রাসবাদের ভিত্তি, চিনে নাম না করেই শাহবাজকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

0:00