নিজস্ব প্রতিনিধিঃ- বড়দিন থেকে নতুন বছর পর্যন্ত চলছে বর্ষবরণের মরসুম। তাই সাধারন মানুষ আছেন ছুটির মেজাজে। কখনও যাচ্ছেন চিড়িয়াখানায়, আবার কখনও যাচ্ছেন জাদুঘর, কেউ আবার ঘুরে দেখছেন কলকাতা। কিন্তু মানুষের এই আনন্দের মেজাজে বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বাস পরিষেবায়। যাত্রীদের অভিযোগ, রাস্তায় নেই পর্যাপ্ত বাস। এর ফলে গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে যাত্রীদের। শহরবাসী তো বটেই, এর জন্য ভুগতে হচ্ছে আশপাশের জেলা ও শহরতলি এলাকা থেকে কলকাতায় আসা অসংখ্য মানুষকে।
সরকারি বাস কর্তাদের দাবি, টাকার অভাবে বহু বাসের মেরামতি দীর্ঘদিন আটকে রয়েছে। এসি ভলভো সহ সাধারণ শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাসগুলির জরুরি মেরামতি করাতে কয়েক কোটি টাকা প্রয়োজন। অর্থবর্ষ শেষ হতে আর তিন মাস বাকি। তাই এই সময়ে নবান্নের তরফে অর্থ বরাদ্দ কাটছাঁট করা হচ্ছে। ফলস্বরূপ শ’য়ে শ’য়ে বাস শহর ও শহরতলির বিভিন্ন ডিপোতে কার্যত পড়ে রয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে পরিষেবায়। ফলে জোড়াতাপ্পি দিয়ে কোনওরকমে পরিষেবা চালু রাখা হয়েছে। বাসের সংখ্যা কমে যাওয়ায় ট্রিপও কমাতে হচ্ছে। ফলে রাস্তায় সরকারি গাড়ির উপস্থিতি কমছে।
অন্যদিকে বেসরকারি বাস মালিকদের যুক্তি আবার ভিন্ন। তাদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ভাড়া বাড়ায়নি রাজ্য সরকার। করোনা পরবর্তী সময়ে কিস্তির টাকা শোধ করতে না পারায় বহু বাস ব্যাঙ্কই টেনে নিয়ে গিয়েছে। সেগুলি আর পথে নামেনি। উল্টে গত কয়েকবছরে জ্বালানি ও যন্ত্রপাতির দাম কয়েকগুণ বেড়েছে। স্বভাবতই আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের তারতম্য বেড়ে চলেছে। তাই বহু বাস মালিক দিনের পুরো ট্রিপ করাচ্ছে না। সূর্য ডুবলেই বাস গ্যারাজ করার নির্দেশ দিচ্ছেন কর্মীদের। তাই সন্ধ্যা নামলেই রাস্তা থেকে বেসরকারি বাস উধাও হয়ে যাচ্ছে। মালিকদের সংগঠনের তরফে পরিবহণ দপ্তরের কাছে সমস্যার সমাধান চেয়ে একাধিক দাবি জানানো হয়েছে। সেগুলি এখনও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলে খবর। তাই পরিষেবা কিছুটা কমিয়ে মালিকরা আদতে সরকারকে বার্তা দিতে চাইছে বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের।