নিজস্ব প্রতিনিধি,ঝাড়গ্রাম: কসবা কাণ্ডের পর যখন পুলিশকে নিয়ে ভাইরাল হওয়া গান ছি ছি ননীর মত লোকের মুখে মুখে সমালোচনা ঘুরছে সেই সময় জঙ্গলমহলের পুলিশ ফের মানবিক মুখ তুলে নিয়ে এল সমাজে।বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশের(Jhargram District Police) উদ্যোগে এবং বেলিয়াবেড়া থানার সহযোগিতায় আয়োজিত হল এক বিশেষ সমাজসেবামূলক অনুষ্ঠান। শনিবার গোপীবল্লভপুর ২ নম্বর ব্লকের অন্তর্গত খামার প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় বস্ত্র ও মশারি বিতরণ কর্মসূচি। ‘পুলিশের সহায় প্রকল্প’-এর মাধ্যমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দুই শতাধিক দরিদ্র গ্রামবাসীর হাতে তুলে দেওয়া হয় নতুন শাড়ি ও মশারি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঝাড়গ্রাম জেলার পুলিশ সুপার(SP) অরিজিৎ সিনহা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) সৈয়দ এম এম হাসান, ডিএসপি সমীর অধিকারী, গোপীবল্লভপুরের সার্কেল ইন্সপেক্টর দেবাশীষ ঘোষ, বেলিয়াবেড়া থানার ওসি(OC) সুদীপ পালোধী সহ জেলা পুলিশের অন্যান্য আধিকারিকরা। এদিনের কর্মসূচিতে শুধুমাত্র বস্ত্র বিতরণই নয়, দিশা কোচিং সেন্টারের ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে শিক্ষা সামগ্রী, মশারি তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুলিশ সুপার অরিজিৎ সিনহা বলেন, “ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশের সহায় প্রকল্পের মাধ্যমে জেলার প্রতিটি থানায় নিয়মিত সমাজসেবামূলক কর্মসূচি নেওয়া হয়ে থাকে। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে এদিনের এই আয়োজন তারই একটি অংশ। আগামী দিনেও এই ধারা জেলাজুড়ে অব্যাহত থাকবে।”
পুলিশের এই উদ্যোগে খুশি এলাকাবাসী। তাঁদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ সমাজে এক ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয় এবং পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হয়। অশান্তির আগুনে যখন জ্বলছে মুর্শিদাবাদ তখন জঙ্গলমহলে শান্তির দূত হিসেবে নিরবে সমাজসেবা মূলক কাজ করে চলেছেন এই খাঁকি পোশাক ধারীরা। হাতের সবকটি আঙুল যেমন সমান নয়, তেমনি রাষ্ট্রের বাহিনী যে সবাই সমালোচনার যোগ্য নয় তা প্রমাণ করল জঙ্গলমহলের পুলিশ বাহিনী। কসবায় শিক্ষকরা লাঠির ঘা খাওয়ার পর গোলাপ ফুল নিয়ে গিয়েছিলেন পুলিশ কর্মীদের হাতে দিতে। অভিমানে সেখানকার পুলিশ কর্মীরা তা গ্রহণ করেনি। কিন্তু জঙ্গলমহলের মানুষ মনের অন্তর থেকে গোলাপের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন ‘দুষ্টের দমন আর সৃষ্টের পালনে’ কর্তব্যরত এই পুলিশ কর্মীদের।