নিজস্ব প্রতিনিধি: বিয়েবাড়ি মানেই ঝকমকে আলো সাথে রকমারি খাবারের বাহার। থাকে অতিথিদের উপহার দিয়ে আনন্দ উচ্ছ্বাসের ছবি। তবে সেই ছবি দেখা গেল না হাওড়া জেলার জগৎবল্লভপুরে ঘোষ বাড়ির মেয়ের বিয়ে। দেখা গেল পুলিশে কর্মরতার বিয়েতে হাজির প্রায় ৩০০ জন দুঃস্থ। আর তাদেরকেই সাদরে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন ঘোষ বাড়ির কর্তা চন্দ্রকান্ত ঘোষ। সেই সঙ্গে হাতে তুলে দিলেন শীতবস্ত্র।
জানা গিয়েছে সোমবার বিয়ে ছিল সংহিতা ঘোষের। তিনি মহেশতলা থানার অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইনস্পেক্টর। সংহিতার বাবা চন্দ্রকান্ত ঘোষ ও মা সন্ধ্যা ঘোষও পুলিশে কর্মরত। একমাত্র মেয়ে সংহিতার বিয়ে ঠিক হয় কলকাতার বেলেঘাটার বাসিন্দা রোহিত দত্তের সঙ্গে। রোহিত পেশায় ইঞ্জিনিয়ার। বিয়ের পরের দিন তাঁরা প্রায় ৩০০ দুঃস্থ মানুষকে নিমন্ত্রণ করেছিলেন। সে দিন তাদের দুপুরে পাত পেড়ে খাওয়ার ব্যবস্থা করে ঘোষ পরিবার। মেনুতে ছিল বিয়েবাড়ির খাবারের মতোই হরেক রকমের পদ। খাওয়া শেষে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় কম্বল ও শীতবস্ত্র। নবদম্পতি বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে মাথা পেতে আশীর্বাদ নেন।
সংহিতা জানান, এটাই তাদের বিয়ের বড় উপহার। অন্যদিকে সংহিতার স্বামী রোহিত বলেন, ‘আমার খুব ভালো লাগছে। আমার শ্বশুরবাড়ির থেকে এমন আয়োজন করা হবে, তা ভাবতেও পারিনি। এ বাড়ির জামাই হিসেবে গর্ব হচ্ছে।’ সংহিতার বাবা চন্দ্রকান্ত ঘোষ ডিউটি করার সময়ে বিভিন্ন জায়গায় দেখতেন ফুটপাথে থাকা মানুষজন শীতে কষ্ট পাচ্ছেন।সেই থেকেই তার ইচ্ছা ছিল মেয়ের বিয়েতে অন্তত একদিন এদের নিয়ে আনন্দ করবেন তিনি। চন্দ্রকান্ত বলেন, ‘পথে দিন কাটানো মানুষকে আমন্ত্রণ করার কথা স্ত্রী ও মেয়েকে জানিয়েছিলাম। তাতে তারাও সায় দেন। তার পরেই মেয়ের বিয়ের পরের দিন ওদের নিমন্ত্রণ করে সামান্য খাবারের ব্যবস্থা করি।’