নিজস্ব প্রতিনিধি,হাঁসখালি: যৌতুকের দাবীতে নিয়মিত অত্যাচার এবং শেষে কেরোসিন তেল ঢেলে ২২ বছরের স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় স্বামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং শ্বশুর শাশুড়িকে ৭ বছরের কারাবাসের আদেশ শোনাল রানাঘাট এডিজে আদালত(Ranaghat ADJ Court)। ঘটনা হাঁসখালি থানার ২০১৭ সালের ২২ অগাস্ট। ঐ দিন ভোরে হাঁসখালি থানার ডাহারবুঁইচ্যা গ্রামের বাসিন্দা অভিযুক্ত স্বামী রঞ্জিত রায় এবং তারা বাবা – মা মিলে স্ত্রী পূজার শরীরে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যার চেষ্টা করে।
মহিলাকে তাৎক্ষণিকভাবে শক্তিনগরের জেলা হাসপাতালে(Shaktinagar Hospital) স্থানান্তরিত করা হয় এবং সেখানে তিনি মারা যান। পূজার পিতামাতার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে হাঁসখালি থানায় উপরোক্ত উল্লেখিত মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তের পর তদন্তকারী অফিসার যথাসময়ে উচ্চ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। শুক্রবার রানাঘাটের লেফটেন্যান্ট এডিজে আদালত নিম্নলিখিত অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করে স্বামী রঞ্জিত রায়কে ৪৯৮এ/৩২৬/৩০৭/১২০বি আইপিসি ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও সাথে আর্থিক জরিমানা,পিতা কাঙ্গালি রায় (৬২), পুত্র: রাজেন্দ্র রায় ও মাতা পলি ওরফে ফলি রায়কে ৭ বছর কারাবাস ও সাথে আর্থিক জরিমানা করে আদালত।
মামলাটি তদন্ত করেছেন এস.আই. শিবশঙ্কর বোস এবং সরকারি আইনজীবী ছিলেন নবেন্দু বিশ্বাস। দীর্ঘ আট বছর পর এই মামলার যাবতীয় সাক্ষ্য প্রমাণ দেখার পর অবশেষে সাজা ঘোষণা করে আদালত।সরকারি পক্ষের আইনজীবী জানান, মোট ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত। বর্তমানে শাশুড়ি হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্ত ছিলেন। কিন্তু এই রায়ের ধরুন তাকে আবার গ্রেফতার করা হবে। প্রায় আড়াই বছর তাকে জেলে থাকতে হবে। এই ঘটনায় জেলে থাকা শ্বশুর। দীর্ঘ আট বছর বন্দি থাকায় তিনি অবশ্য ছাড়া পেয়ে যাবেন। স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে এবং সঙ্গে আর্থিক জরিমানা হয়েছে। মৃত্যুর আগে ওই গৃহবধূ যে ঘটনার কথা জানিয়ে গেছিল তা নথিভুক্ত করেছিলেন হাসপাতালে চিকিৎসক ও তদন্তকারী পুলিশ অফিসার।