নিজস্ব প্রতিনিধি, গুসকরা: পূর্ব বর্ধমান জেলার গুসকরাতে অমানবিক ঘটনা ঘটল। দুর্ঘটনায় রাস্তায় পড়ে থাকা বাবার ছিন্ন ভিন্ন দেহ ছেলেকে দিয়ে তোলাল পুলিশ। এই ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছে সর্বত্র। বিতর্কের মুখে পড়েছে পুলিশের ভূমিকা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে সোমবার রাতে ডাম্পারের চাকায় পিষ্ট হওয়া এক বৃদ্ধের দেহ উদ্ধার করার সময় সমস্যা দেখা দেয়। কারণ পথ দুর্ঘটনায় ওই বৃদ্ধের দেহ ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যায়। সোমবার রাত আটটা নাগাদ গুসকরার বাস টার্মিনাস – এর কাছে ডাম্পারের(Dumper) ধাক্কায় মৃত্যু হয় প্রদীপ কুমার দাসের(Pradip Kumar Das) (৬৫)। তিনি পেশায় লটারি টিকিট বিক্রেতা ছিলেন।
তার বাড়ি গুসকরা পুরসভার(Guskara Municipality) ১১ নম্বর ওয়ার্ডের শিরিষ তলায়। ওই বৃদ্ধ লটারির দোকান বন্ধ করে যখন বাড়ি ফিরছিলেন সেই সময় গুসকরা বাস টার্মিনাস এর কাছে একটি ডাম্পার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এসে ওই বৃদ্ধকে চাপা দেয়। রাস্তায় ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যায় তার দেহ। এরপরই মানুষজন ক্ষিপ্ত হয়ে রাস্তা অবরোধ শুরু করে।ডাম্পারটি রেখে দিয়ে চালক পালিয়ে যায়। এরপর পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করতে গিয়ে দেখে চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এই বৃদ্ধের দেহের বিভিন্ন অংশ। পুরো ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গিয়েছে। পুলিশ মৃত্যুর সংবাদ শুনে সেখানে ছুটে আসা ছেলে সুদীপ দাসকে(Sudip Das) দিয়ে বাবার দেহের বিভিন্ন অংশ সংগ্রহ করে সেই ছিন্ন ভিন্ন মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য পাঠায় হাসপাতালের পুলিশ মর্গে।
দুর্ঘটনাস্থল থেকে ছেলেকে দিয়ে বাবার ছিন্ন ভিন্ন দেহ উদ্ধার করিয়ে গুসকরা ফাঁড়ির (Guskara Fari)পুলিশ বিতর্কের মুখে পড়েছে। পুলিশের এহেনো আচরণ রীতিমত নিন্দার ঝড় তুলেছে সব মহলে। ডাম্পারটি আটক করেছে পুলিশ। দীর্ঘক্ষণ পথ অবরোধের দরুণ ওই এলাকায় সোমবার রাতে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হয়।মৃত বৃদ্ধর ছেলে সুদীপ দাস জানিয়েছেন ,সোমবার রাতে ঝড় – বৃষ্টির পর তার বাবা যখন দোকান বন্ধ করে রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিল সেই সময় পিছন দিক থেকে একটি ডাম্পার এসে ধাক্কা মারে। ডাম্পারের নিচে পড়ে গিয়ে শরীরের উপর দিয়ে ডাম্পারের চাকা চলে যায়। দেহ টুকরো টুকরো হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকে। পরে খবর পেয়ে সেই ঘটনাস্থলে গেলে তাকে দিয়ে বাবার দেহের টুকরো সংগ্রহ করায় পুলিশ।