নিজস্ব প্রতিনিধি, কালিম্পং: এবার চলন্ত গাড়ির ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হল একাদশ শ্রেণীর এক ছাত্রের। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে, কালিম্পং জেলার গরু বাথান ব্লকের ভুট্টা বাড়ি এলাকায়। মৃত ছাত্রের নাম বিশাল তামাং। তাঁর বাড়ি নাগরাকাটা এলাকায়। গরুবাথান যুদ্ধবীর হাইস্কুলের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র ছিল ছেলেটি। ঘটনা সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১০ মার্চ) স্কুল ছুটির পর ছাত্রটি একটি যাত্রীবাহী ম্যাজিক গাড়িতে উঠেছিল।
কিন্তু গাড়িতে এতটাই ভিড় ছিল যে, ছেলেটি আর উপায় না পেয়ে গাড়ির ছাদে বসে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কিন্তু ভুট্টাবাড়ি এলাকায় আচমকা গাড়ির উপর থেকে ছিটকে নিচে পড়ে যায় ছেলেটি, গুরুতর জখম হয়। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাঁকে মাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছয় গরুবাথান থানার পুলিশ। চালক সহ গাড়িটিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। এই ঘটনায় ওই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এই ঘটনা প্রথম নয়, ডুয়ার্স এলাকায় বিভিন্ন রাস্তায় যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যা এতটাই কম যে, প্রতি মুহূর্তে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুল পড়ুয়া থেকে সাধারণ মানুষদের যাতায়াত করতে হয়।
এদিকে রাজ্যজুড়ে একের পর এক দুর্ঘটনা। মাধ্যমিক পরীক্ষার থেকেই প্রকাশ্যে আসছে একের পর এক পড়ুয়া মৃত্যুর ঘটনা। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষাতেও তার ব্যতিক্রম হয় নি। কখনও পরীক্ষা খারাপ হওয়ার চিন্তায় গলায় দড়ি দিয়েছেন পরীক্ষার্থী, আবার কখনও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু মায়ের নিথর দেহ দেখেই পরীক্ষা দিতে যায় ছেলে। আবার কখনও উচ্চমাধ্যমিকে কেমিস্ট্রি পরীক্ষা দিয়েই নিখোঁজ পরীক্ষার্থীর দেহ পাওয়া যায় দিঘির জলে। এছাড়াও নকল করার কাণ্ড কারখানাগুলি তো রয়েছেই। কখনও কড়া গার্ড দেওয়ার জন্যে শিক্ষকের গায়ে গরম জল ঢেলে দিচ্ছে পরীক্ষার্থীরা, ভাঙচুর করছে স্কুল।আবার কখনও জুতোর ভিতরে লুকোনো মোবাইল দেখে টুকলি করতে গিয়ে ধরা পড়ে যায় পরীক্ষার্থীরা। সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করা হয় তাঁর পরীক্ষা। এছাড়াও পরীক্ষা দিতে গিয়ে মাথার উপর ফ্যান খুলে পড়ে গিয়েছে এমন ঘটনাও প্রকাশ্যে এসেছে। সুতরাং এ বছর মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় একাধিক ঘটনা ঘটেছে এবং ভবিষ্যতে আরও ঘটবে বলে অনুমান।